ডিগ্রি ছাড়াই বাজিমাত! ভারতের হর্ষিতা এখন বিশ্বের সেরা স্টার্টআপ সংস্থা ‘Y Combinator’-এর জেনারেল পার্টনার

উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের একটি বন্ধ ঘর থেকে শুরু হয়েছিল এক অদম্য যাত্রা। প্রথাগত শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে মাত্র ২৪ বছর বয়সেই সিলিকন ভ্যালির অন্যতম প্রভাবশালী টেক-স্টার্টআপ এক্সিলারেটর ‘ওয়াই কম্বিনেটর’-এর সর্বকনিষ্ঠ জেনারেল পার্টনার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন হর্ষিতা অরোরা। সুন্দর পিচাই কিংবা সত্য নাদেল্লার মতো ব্যক্তিত্বরা যখন উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন, হর্ষিতা সেখানে স্কুল-কলেজের ডিগ্রি ছাড়াই নিজের মেধা ও জেদকে পুঁজি করে তৈরি করেছেন এক নতুন দৃষ্টান্ত।
প্রথাগত শিক্ষাকে বিদায় ও স্বনির্ভরতার জেদ
২০০২ সালে জন্ম নেওয়া হর্ষিতা বরাবরই মেধাবী ছিলেন, তবে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি অনুধাবন করেন যে পুঁথিগত বিদ্যা বা মুখস্থ নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা তাঁর জন্য নয়। বাবার আপত্তি সত্ত্বেও স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে ঘরের কোণায় ল্যাপটপ নিয়ে শুরু করেন প্রোগ্রামিং শেখা। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ চলচ্চিত্রটি দেখার পর উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন তিনি। তাঁর এই সাহসী সিদ্ধান্তই পরবর্তীকালে তাঁকে আন্তর্জাতিক আঙিনায় পরিচিতি এনে দেয়।
সাফল্যের খতিয়ান ও বিশ্বমঞ্চে উত্থান
২০১৮ সালে হর্ষিতার তৈরি ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি পোর্টফোলিও ট্র্যাকার’ অ্যাপটি অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে শীর্ষ তালিকায় স্থান করে নেয়। এরপর ২০২১ সালে তাঁর ফিনটেক স্টার্টআপ ‘AtoB’-এর জন্য ওয়াই কম্বিনেটর থেকে অর্থায়ন পান, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার। ২০২০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার’-এ ভূষিত করে। নিজের লক্ষ্য স্থির থাকায় তিনি ঝুঁকি নিতে ভয় পাননি এবং সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকার মানসিকতাই তাঁকে সাফল্যের এই শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে।
প্রভাব ও অনুপ্রেরণা
হর্ষিতার এই সাফল্য বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিশেষ বার্তা বহন করে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে নির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে প্রথাগত ডিগ্রির বাইরেও বিশ্ব জয় করা সম্ভব। যদিও তিনি সবাইকে কলেজ ছাড়ার পরামর্শ দেন না, তবে পরিবর্তিত প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত আপডেট রাখার ওপর জোর দেন। তাঁর এই উত্থান ভারতের ছোট শহর থেকে আসা স্বপ্নবাজ তরুণদের জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের হর্ষিতা অরোরা বর্তমানে ‘ওয়াই কম্বিনেটর’-এর সর্বকনিষ্ঠ জেনারেল পার্টনার।
- নবম শ্রেণিতে স্কুল ছেড়ে দিয়ে নিজে নিজে প্রোগ্রামিং ও কোডিং রপ্ত করেন।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্টার্টআপ ‘AtoB’-এর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার’ লাভ করেছেন।
