ডিজিটাল ইন্ডিয়ার পথে নতুন ইতিহাস, আজ থেকে শুরু বিশ্বের বৃহত্তম ও প্রথম কাগজহীন জনশুমারি

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার পথে নতুন ইতিহাস, আজ থেকে শুরু বিশ্বের বৃহত্তম ও প্রথম কাগজহীন জনশুমারি

সারা দেশজুড়ে আজ বুধবার থেকে শুরু হলো ২০২৭ সালের জনশুমারির প্রথম পর্যায়ের কাজ। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে এই বিশালাকার জনশুমারি। প্রথাগত কাগজ-কলম বর্জন করে এবার স্মার্টফোন ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার পথে এটি ভারতের একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ১ এপ্রিল থেকে প্রথম পর্যায়ের ‘হাউস লিস্টিং’ বা ঘরবাড়ি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যেখানে নাগরিকরা হিন্দি ও ইংরেজিসহ ১৬টি ভাষায় ‘সেলফ-এনিউমারেশন’ পোর্টালে নিজেদের তথ্য সরাসরি আপলোড করার সুযোগ পাবেন।

এবারের জনশুমারির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ১৯৩১ সালের পর এই প্রথম ভারতে জাতিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে গৃহস্থালির অবস্থা, পানীয় জলের উৎস, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং সম্পদের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্যায়ে নাগরিকদের জাতি-সংক্রান্ত তথ্য নেওয়া হবে। এই সুবিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে সারা দেশে প্রায় ৩০ লক্ষ গণনাকারী নিয়োগ করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার ১১,৭১৮.২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ওড়িশা, দিল্লি, সিকিমসহ বিভিন্ন রাজ্যে ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া চলবে।

জনশুমারি চলাকালীন জালিয়াতি এড়াতে কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোট ৩৩টি প্রশ্ন করলেও কোনো অবস্থাতেই তারা আপনার মাসিক আয়, ব্যাংক ব্যালেন্স, আধার-প্যান কার্ডের হার্ড কপি কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওটিপি (OTP) চাইবেন না। এই ধরণের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য চাওয়া হলে তা প্রদান থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি পোর্টালে তথ্য জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত ইউনিক আইডিটি বাড়িতে আসা কর্মীকে দেখালেই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

তথ্য সুরক্ষায় বিশেষ নজর দিয়ে পরিচালিত এই ডিজিটাল জনশুমারি ভারতের প্রশাসনিক ও পরিসংখ্যানগত ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে। ওড়িশা, দিল্লি ও কর্ণাটকের মতো অঞ্চলে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্ব-নথিভুক্তিকরণের সুযোগ থাকলেও অন্যান্য রাজ্যে পর্যায়ক্রমে এই কাজ শুরু হবে। ২০২৭ সালের ১ মার্চকে এই জনশুমারির রেফারেন্স তারিখ হিসেবে ধরা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *