ডিজিটাল গ্রেপ্তারির ফাঁদ রুখতে সিবিআইয়ের নতুন দাওয়াই ‘অভয়’ – এবেলা

ডিজিটাল গ্রেপ্তারির ফাঁদ রুখতে সিবিআইয়ের নতুন দাওয়াই ‘অভয়’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সিবিআই বা পুলিশ সেজে ফোন করে টাকা হাতানোর দিন শেষ। লাগাতার সচেতনতার কারণে আমজনতা ফোন এড়িয়ে চলায় এবার প্রতারণার কৌশল বদলেছে সাইবার জালিয়াতরা। এখন সরাসরি হোয়াটসঅ‌্যাপে পাঠানো হচ্ছে সিবিআইয়ের ভুয়ো নোটিস। প্রোফাইল পিকচারে থাকছে সিবিআইয়ের লোগো। নোটিসে দাবি করা হচ্ছে, প্রাপক বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁকে সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে। এই নোটিস দেখে আতঙ্কিত হয়ে যোগাযোগ করলেই শুরু হচ্ছে ‘ডিজিটাল গ্রেপ্তারি’র নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার খেলা। এই নতুন ও বিপজ্জনক ‘মোডাস অপারেন্ডি’ বা অপরাধের পদ্ধতি রুখতে এবার ‘অভয়’ নামের একটি বিশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন হেল্পবট চালু করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই।

নতুন প্রযুক্তিতে জালিয়াতি চেনার উপায়

সাধারণ মানুষের পক্ষে সিবিআইয়ের পাঠানো নোটিস আসল না নকল, তা বোঝা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা পড়ার পর সিবিআই তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই চ্যাটবট যুক্ত করেছে। ব্যবহারকারীকে প্রথমে সিবিআইয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘অভয়’-এর লোগোতে ক্লিক করতে হবে। এরপর নিজের মোবাইল নম্বর দিলে একটি ওটিপি আসবে। ওটিপি দেওয়ার পর সন্দেহভাজন নোটিসটি আপলোড করলেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে চ্যাটবটটি পরীক্ষা করে নিমেষের মধ্যে জানিয়ে দেবে সেটি আসল নাকি ভুয়ো।

ডিজিটাল আতঙ্ক ও আইনি পদক্ষেপ

তদন্তকারীদের মতে, সাইবার অপরাধীরা অনেক সময় ভিডিও কলে নিজেদের বিচারক বা উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ডিজিটাল গ্রেপ্তারিতে ‘সিলমোহর’ দেওয়ার নাটক করে। এর ফলে বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকরা চরম মানসিক হেনস্থা ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সিবিআই জানিয়েছে, ‘অভয়’ চ্যাটবটের মাধ্যমে যদি কোনো নোটিস ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়, তবে ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে অবিলম্বে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে হবে। ইতিমধ্যেই এই ধরনের ডিজিটাল গ্রেপ্তারির সঙ্গে যুক্ত একাধিক আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরের সাইবার জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে সিবিআই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *