ডিজিটাল বিপ্লবে নতুন রূপ পাচ্ছে আদমশুমারি, নবান্নে আজ বিশেষ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী – এবেলা

ডিজিটাল বিপ্লবে নতুন রূপ পাচ্ছে আদমশুমারি, নবান্নে আজ বিশেষ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত আদমশুমারি বা জনগণনার কাজ। গত ১১ মে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আজ, শুক্রবার নবান্ন সভাঘরে প্রিন্সিপ্যাল সেন্সাস অফিসারদের একটি বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমেই রাজ্যে জনগণনার প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে। এবারের শুমারিতে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সেন্সাস ২০২৭-এর বিশেষ ম্যাসকটও উন্মোচন করা হবে।

ঘরে বসেই স্ব-গণনার ঐতিহাসিক সুযোগ

এবারের আদমশুমারিতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া, যা ভারতের ইতিহাসে প্রথম। এবারই প্রথম নাগরিকরা ‘সেলফ এনিউমারেশন’ বা স্ব-গণনার সুবিধা পাবেন। সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিজেই অনলাইনের সাহায্যে তাদের পরিবারের যাবতীয় তথ্য ও বিবরণ জমা দিতে পারবেন। তথ্য সফলভাবে আপলোড হওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট আইডি তৈরি হবে। পরবর্তীতে সরকারি গণনাকারীরা যখন বাড়িতে আসবেন, তখন শুধু এই আইডিটি দেখালেই চলবে। আগামী ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এই অনলাইন সুবিধা চালু থাকবে। তবে যারা এই পদ্ধতি ব্যবহার করবেন না, তাদের বাড়িতে গিয়ে প্রথাগত নিয়মেই তথ্য সংগ্রহ করবেন কর্মীরা।

১৬ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন

অনলাইন স্ব-গণনার পর্ব শেষ হতেই আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে শুরু হবে মাঠপর্যায়ের প্রথম পর্বের কাজ। এই সময়ে সরকারি গণনাকারীরা সরাসরি প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ৩৩টি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করবেন। আবাসন ব্যবস্থা, পরিবারের সুযোগ-সুবিধা, মোট সম্পদ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই প্রশ্নাবলির অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে রাজ্যের প্রকৃত জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক অবস্থার একটি নিখুঁত চিত্র উঠে আসবে, যা ভবিষ্যতের সরকারি পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে।

সুরক্ষিত মোবাইল অ্যাপ ও উপগ্রহ প্রযুক্তির ব্যবহার

ডিজিটাল এই প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য এবার বিশেষ ‘এইচএলও’ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি, পুরো কার্যক্রম রিয়েল-টাইমে নজরদারি করার জন্য থাকবে একটি কেন্দ্রীয় ওয়েব পোর্টাল। এমনকি নিখুঁত ম্যাপিং বা মানচিত্র তৈরির জন্য উপগ্রহ প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। ডাইরেক্টোরেট অফ সেন্সাস অপারেশনস-এর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বরও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *