ডিজেতে রাশ টানতেই ফিরল সাবেকি ঢাক, পুজোর মুখে মুখে হাসি হাজারো ঢাকি পরিবারে

দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ও শোভাযাত্রায় সাউন্ড লিমিটার ছাড়া তারস্বরে ডিজে বাজানোর ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি হতেই এবার শহরজুড়ে বেড়েছে সাবেকি ঢাকের প্রবল চাহিদা। ডিজে কালচারের দাপটে দীর্ঘদিন ধরে যাদের উপার্জনে ভাঁটা পড়েছিল, সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তে আবার নতুন আশার আলো দেখছেন সেই ঢাকিরা। শারদোৎসবের ঠিক মুখে পূর্ব মেদিনীপুরের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ঢাকিপাড়াগুলিতে এখন তাই রাতদিন ব্যস্ততার শেষ নেই। কেউ ঢাকের খোল মেরামত করছেন, তো কেউ চামড়া ছেঁটে বোলের সুর বাঁধছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে বায়নার পরিমাণ অনেকটাই বেশি থাকায় চরম ব্যস্ততার মাঝেই আনন্দে মেতে উঠেছেন গ্রামীণ এই বাদ্যশিল্পীরা।
জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার কলকাতা, খড়্গপুর, জামশেদপুর ছাড়াও দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের মতো দূরদূরান্তের রাজ্য থেকেও বিপুল বায়না পাচ্ছেন স্থানীয় শিল্পীরা। অনেক পুজো কমিটিই চড়া চাহিদা এবং পর্যাপ্ত ঢাকি না পেয়ে ভিনজেলা থেকে দল বুক করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের দাপট সামলে পুজোয় ঢাকের গাম্ভীর্যপূর্ণ মিউজিক ফিরিয়ে আনার এই পদক্ষেপে যেমন গ্রাম বাংলার লোকশিল্পীদের রুজি-রুটি সুনিশ্চিত হয়েছে, তেমনই ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিও পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। ঢাকের কাঠির চিরচেনা ও পরিচিত মিষ্টি বোলে এবার সত্যিই উৎসবের নতুন মেজাজ বুনতে চলেছে তিলোত্তমা থেকে শুরু করে সমগ্র বাংলা।
