ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের চাপে পিছু হটল স্বাস্থ্য ভবন? ফিরছে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র দেওয়ার অধিকার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সম্প্রতি একটি নির্দেশিকা ঘিরে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছিল রাজ্যে। কেড়ে নেওয়া হয়েছিল ডিএমএস (DMS) এবং ডিএইচএমএস (DHMS)-সহ ডিপ্লোমাধারী আয়ুষ চিকিৎসকদের জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র (বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেট) দেওয়ার দীর্ঘদিনের অধিকার। তবে প্রবল প্রতিবাদের মুখে পড়ে এবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটতে চলেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। সূত্র মারফত খবর, আগের ব্যবস্থাই পুনরায় বহাল করার আশ্বাস মিলেছে স্বাস্থ্য ভবন থেকে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য দপ্তরের এক গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকদের এই অধিকার বাতিল করা হয়। এর ফলে রাজ্যের প্রায় ৩০ হাজার আয়ুষ চিকিৎসক তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। চিকিৎসকদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ, কারণ গ্রামেগঞ্জে বাড়িতে জন্ম বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে এই চিকিৎসকরাই ভরসা।
এই নির্দেশিকার প্রতিবাদে গত সোমবার ‘মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টার’-এর নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্য ভবনে ডেপুটেশন জমা দেয়। তাঁদের দাবি, ১৯৬৩ সাল থেকে ডিএমএস এবং ১৯৮৪ সাল থেকে ডিএইচএমএস চিকিৎসকেরা এই অধিকার পেয়ে আসছেন। মাঝে ১৯৯১ সালে একবার তাঁদের এই ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হলেও, বৃহত্তর আন্দোলনের জেরে ১৯৯৯ সালে তা ফেরাতে বাধ্য হয়েছিল সরকার। ২০০১ সালে ডিএইচএমএস কোর্স বন্ধ হয়ে বিএইচএমএস শুরু হলেও, পুরোনো ডিপ্লোমাধারীরা দীর্ঘকাল ধরে সুনামের সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সংগঠনের রাজ্য সহ-সভাপতি সজল বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ডিপ্লোমাধারী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের সমস্ত অধিকার ধাপে ধাপে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এখন শংসাপত্র দেওয়ার অধিকার কাড়ছে, আগামী দিনে হয়তো সার্বিকভাবে ডাক্তারি করার অধিকারটাই কেড়ে নেবে।”
তবে স্বাস্থ্য ভবনে এই কড়া প্রতিবাদের পরেই বরফ গলেছে বলে খবর। স্বাস্থ্য দপ্তর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার এবং আগের নিয়ম দ্রুত ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তে শুধু যে ৩০ হাজার চিকিৎসক স্বস্তি পাচ্ছেন তা নয়, বড়সড় ভোগান্তির হাত থেকে বাঁচল গ্রামীণ বাংলার সাধারণ মানুষও।
