লেটেস্ট নিউজ

ডুরান্ড লাইনে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ, পাকিস্তানের ওপর আফগান সেনার বিধ্বংসী পাল্টাহানা উড়িয়ে দিল একাধিক সেনা ছাউনি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক

দক্ষিণ এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা! দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিবাদ আর চরম উত্তেজনার পারদ চড়ে অবশেষে রণক্ষেত্রে পরিণত হলো পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধে থেকে ডুরান্ড লাইনের পাঁচটি স্পর্শকাতর এলাকায় দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে শুরু হয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। তোপধ্বনি আর ভারী আগ্নেয়াস্ত্রের গর্জনে কেঁপে উঠছে সীমান্ত সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছাড়ছেন হাজার হাজার আতঙ্কিত মানুষ।

আক্রমণের সূত্রপাত ও সংঘর্ষের বিস্তার

সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ভারতীয় সময় সন্ধে ৬টা ৪৩ মিনিট নাগাদ অশান্তির সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে, উরঘা সীমান্তে অবস্থিত আফগানিস্তানের একটি সামরিক পোস্ট লক্ষ্য করে অতর্কিতে কামানের গোলাবর্ষণ শুরু করে পাক বাহিনী। এই প্ররোচনামূলক হামলার পর আর চুপ থাকেনি আফগান সেনারাও। মুহূর্তের মধ্যে পাল্টাহানা শুরু হয়। উরঘা বর্ডার ছাড়িয়ে এই সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে জকা খেল, ভরঘা, শাহকোট এবং লান্ডি কোটালের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে।

পাক সেনা ছাউনি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি

নঙ্গারহার প্রদেশের স্থানীয় সূত্র ও হুররিয়ত রেডিওর রিপোর্ট অনুযায়ী, আফগান বাহিনী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে পাল্টা জবাব দিয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, নাজিয়ান এবং ডরবাবা জেলা সংলগ্ন ডুরান্ড লাইনের ওপারে থাকা পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি শক্তিশালী সেনা ছাউনি বা ‘মিলিটারি আউটপোস্ট’ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে আফগান সেনারা। যদিও আফগান তালিবান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি, তবে সীমান্তের ওপার থেকে আসা আগুনের লেলিহান শিখা পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কেন বারবার অশান্ত হচ্ছে এই সীমান্ত

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এই তিক্ততার মূলে রয়েছে ডুরান্ড লাইন এবং সন্ত্রাসবাদ ইস্যু। পাকিস্তানের দাবি, ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (TTP) জঙ্গিরা আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানে হওয়া একাধিক বিস্ফোরণের দায় টিটিপি-র ওপর চাপিয়ে পাক বায়ুসেনা আফগান সীমানার ভেতরে এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছিল। আফগানিস্তান একে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে মনে করে। এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের জেরেই ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসেও দুই দেশ যুদ্ধের কিনারায় পৌঁছে গিয়েছিল। মাঝে আরব দেশগুলোর মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও, ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে এসে সেই শান্তিচুক্তি ফের ভেস্তে গেল।

দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘর্ষ কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের এই সংঘাত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তে বর্তমানে দুই দেশের সেনাবাহিনীই ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করে ভারী অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করেছে। যদি অতি দ্রুত কূটনৈতিক স্তরে কোনও সমাধান না বেরোয়, তবে এই খণ্ডযুদ্ধ যে কোনও মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সীমান্তের সাধারণ মানুষ এখন শুধুই গোলাবর্ষণ থামার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *