তরমুজ খেয়ে মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত খুন? ময়নাতদন্তে মৃতদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সবুজ দেখে আঁতকে উঠলেন চিকিৎসকরা!

তরমুজ খেয়ে মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত খুন? ময়নাতদন্তে মৃতদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সবুজ দেখে আঁতকে উঠলেন চিকিৎসকরা!

মুম্বাইয়ের পায়ধুনি এলাকায় ডোরিয়া পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুতে এক চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে তরমুজ খেয়ে ফুড পয়জনিং বা খাদ্য বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর ধারণা করা হলেও, সাম্প্রতিক ফরেনসিক রিপোর্ট সেই সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তিদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে, যা সাধারণ কোনো বিষক্রিয়ায় সচরাচর দেখা যায় না।

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সবুজ হওয়ার নেপথ্যে বিষক্রিয়ার প্রভাব

ফরেনసిక్ পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড এবং অন্ত্র অস্বাভাবিকভাবে সবুজ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ফুড পয়জনিংয়ের ক্ষেত্রে অঙ্গের এমন রং পরিবর্তন আসাম্ভব। এটি কোনো অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিরল বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া পরিবারের কর্তা আব্দুল্লাহর শরীরে ‘মরফিন’-এর অস্তিত্ব মেলায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিতেই বিষ প্রয়োগের কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছিল।

সাক্ষ্য প্রদান আটকাতে কি এই হত্যাকাণ্ড?

তদন্তকারীরা এখন আব্দুল্লাহর ব্যবসায়িক লেনদেন এবং পুরনো আইনি ঝামেলার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন। ২০১৯ সালে ডিএন নগর থানায় এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জালিয়াতি মামলায় আব্দুল্লাহ ছিলেন প্রধান সাক্ষী। ২০২৬ সালে সেই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। গুরুত্বপূর্ণ সেই সাক্ষ্য দেওয়ার আগেই সপরিবারে তার মৃত্যু হওয়ায় পুলিশের সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। সাক্ষী হিসেবে তাকে পথ থেকে সরিয়ে দিতেই এই নৃশংস পথ বেছে নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখন তদন্তের মূল বিষয়।

এক ঝলকে

  • মুম্বাইয়ের ডোরিয়া পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্টে বিষ প্রয়োগের প্রমাণ মিলেছে।
  • মৃতদের শরীরের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড ও অন্ত্র অস্বাভাবিকভাবে সবুজ বর্ণ ধারণ করায় চিকিৎসকরা বিস্মিত।
  • পরিবারের প্রধান আব্দুল্লাহর শরীরে মরফিনের উপস্থিতি এবং তার সাক্ষী হওয়ার তথ্যটি খুনের মোটিভ হিসেবে কাজ করতে পারে।
  • ২০২৬ সালে একটি রিয়েল এস্টেট জালিয়াতি মামলায় তার সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *