তরমুজই কি কাল হলো? মুম্বইয়ে একই পরিবারের ৪ জনের রহস্যমৃত্যু, ঘনিয়ে উঠছে ধোঁয়াশা!

মুম্বাইয়ের পাইধোনি এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুতে দানা বেঁধেছে চরম উত্তেজনা। গত রবিবার আব্দুল্লাহ ডোকাদিয়া (৪০), তাঁর স্ত্রী নাসিম (৩৫) এবং দুই কিশোরী কন্যা আয়েশা ও জয়নাব কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রাণ হারান। পরিবারের স্বজনদের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁরা তরমুজ খেয়েছিলেন। ফল খাওয়ার পরই শুরু হয় বমি এবং একপর্যায়ে তাঁরা সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। তবে এই মৃত্যুর পেছনে তরমুজে থাকা কীটনাশক দায়ী কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এফডিএ-র প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ
মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) কমিশনার শ্রীধর দুবে-পাণ্ডে জানিয়েছেন, সাধারণত তরমুজে ১৫ ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করা হলেও শুধুমাত্র তার অবশিষ্টাংশের প্রভাবে মৃত্যু হওয়া প্রায় আসাম্ভব। আঙুর বা অন্যান্য ফলেও এমন অবশিষ্টাংশ থাকে, যা প্রাণঘাতী হয় না। পুলিশ তদন্তে নেমেও পরিবারটি ঠিক কোন দোকান থেকে ফলটি কিনেছিল, তার কোনো সঠিক রসিদ বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পায়নি। ফলে ফলের উৎস শনাক্ত করা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার গুরুত্ব
রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তকারীরা মৃত ডোকাদিয়া পরিবারের ঘর থেকে অর্ধেক খাওয়া তরমুজ ছাড়াও অবশিষ্ট বিরিয়ানি, পুলাও, চাল এবং রান্নাঘরের বিভিন্ন মশলা ও জলর নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এই সব নমুনা বর্তমানে বান্দ্রার ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, খাদ্য বিষক্রিয়া না কি অন্য কোনো বিষাক্ত উপাদানের কারণে এই বিপর্যয়, তা নিশ্চিত হতে ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
এক ঝলকে
- মুম্বাইয়ে তরমুজ খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই পরিবারের ৪ জনের রহস্যজনক মৃত্যু।
- ফলের ওপর থাকা সাধারণ কীটনাশকের প্রভাবে এমন মৃত্যু সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে এফডিএ।
- ঘর থেকে সংগৃহীত তরমুজ, বিরিয়ানি ও জলর নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
- সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত এবং ল্যাবরেটরি রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে পুলিশ ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ।
