তাঁতঘরের নামে হাজার হাজার টাকা লুট! শেষে কীভাবে নিজেদের টাকা ফেরত পেলেন গরিব শিল্পীরা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বীরভূম: দীর্ঘ ৫-৬ বছরের প্রতীক্ষা এবং জোরদার আন্দোলনের পর অবশেষে ‘কাটমানি’র টাকা ফেরত পেলেন বীরভূমের রামপুরহাটের তাঁতশিল্পীরা। তাঁতঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে নেওয়া এই টাকার সিংহভাগ হাতে পেয়ে স্বস্তির শ্বাস ফেলছেন তাঁরা।
কী ঘটেছিল? ঘটনাটি রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লকের তেঁতুলিয়া নতুনগ্রাম তন্তুবায় কো-অপারেটিভ সমবায় সমিতির। অভিযোগ, বছর পাঁচ-সাতেক আগে ওই সমিতির তৎকালীন আধিকারিকরা তাঁতঘর পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে শিল্পীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম কাটমানি নিয়েছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও কোনও শিল্পীই ঘর পাননি। টাকা চাইতে গেলে উলটে হুমকির মুখে পড়তে হত তাঁদের।
কীভাবে এল সাফল্য? এরপরই বিজেপির বিষ্ণুপুর মণ্ডল সভাপতি প্রান্তিক দাসের নেতৃত্বে টাকা ফেরতের দাবিতে পথে নামেন শিল্পীরা। শুরু হয় জোরদার আন্দোলন। প্রবল চাপের মুখে পড়ে অবশেষে শুক্রবার ৫০ জন শিল্পীর হাতে তাঁদের দেওয়া টাকার বড় অংশ ফেরত দিতে বাধ্য হন সমবায়ের বর্তমান ম্যানেজার অশোক ভট্টাচার্য। বাকি টাকার বদলে শিল্পীদের হাতে ‘ডিউ স্লিপ’ ধরানো হয়েছে।
কার কী প্রতিক্রিয়া? ম্যানেজার অশোক ভট্টাচার্যের সাফাই, “আমি মাথাপিছু তিন হাজার টাকা করে নিয়ে তৎকালীন আধিকারিক গোপাল চন্দ্র আলিপাত্রের কাছে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি ঘর না দিয়েই অবসর নেন এবং টাকা নেওয়ার কোনও প্রমাণ নেই বলে দাবি করেন। এখন আন্দোলনের চাপে আমি নিজে ঋণ করে শিল্পীদের টাকা ফেরত দিচ্ছি।”
অন্যদিকে, আংশিক টাকা ফেরত পেয়ে খুশি সাধারণ তাঁতিরা। নতুন গ্রামের বাসিন্দা দেবাশিস প্রামাণিক, রামকৃষ্ণ প্রামাণিকরা বলেন, “তৃণমূলের আমলে ঘর পাওয়ার আশায় কষ্ট করে জমানো টাকা দিয়েছিলাম। ঘর তো মেলেইনি। অবশেষে বিজেপির নেতৃত্বে আন্দোলন হওয়ায় সেই টাকার কিছুটা ফেরত পেলাম। আমরা গরিব মানুষ, এই টাকাটা এখন আমাদের অনেক কাজে লাগবে।”
বিজেপি নেতা প্রান্তিক দাস আশ্বাস দিয়েছেন, ম্যানেজারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাকি টাকাও খুব শীঘ্রই শিল্পীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
