তারাতলা বিপর্যয়ে FIR-এর দাবি! ফিরহাদ হাকিমসহ দুই প্রাক্তন কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এবার সরাসরি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হলো। ঘটনার তদন্তে গাফিলতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে ভারতীয় জনতা মজদুর সেল (BJMC)।
অভিযোগের তির কাদের দিকে?
শনিবার তারাতলা থানায় দায়ের করা এই অভিযোগে ফিরহাদ হাকিম ছাড়াও কলকাতা পুরসভার দুই প্রাক্তন কাউন্সিলার—আনোয়ার খান (৮০ নম্বর ওয়ার্ড) ও সামস ইকবাল (১৩৪ নম্বর ওয়ার্ড)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। BJMC-র দাবি, এই ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং বেআইনি নির্মাণের ফলেই এই বিপর্যয় ঘটেছে।
কী দাবি BJMC-র?
দক্ষিণ কলকাতা জেলা BJMC-র প্রেসিডেন্ট এমবি মহেশ অভিযোগ করে বলেন, “কলকাতা বন্দর এলাকায় যত নির্মাণ হয়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে ববি হাকিম, আনোয়ার খান ও সামস ইকবালের বড়সড় একটি চক্র। অতীতেও একই ধরনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। এবারেও এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় তৎকালীন মেয়র
এর আগে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, তারাতলার যে গোডাউনের নকশা ত্রুটিপূর্ণ ছিল, তাতে তৎকালীন মেয়র হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে। ঘটনাচক্রে, ইতিমধ্যেই তৎকালীন মেয়রের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর পরেই রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রশ্ন তুলেছেন, “যিনি মন্ত্রী ছিলেন এবং যাঁর নোটে সই ছিল, তাঁকে কেন ধরা হবে না?”
যদিও এই বিষয়ে ফিরহাদ হাকিমের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, নির্মাণ বা বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনে মেয়রের কোনও সরাসরি এক্তিয়ার বা ভূমিকা থাকে না, তা দেখার দায়িত্ব থাকে বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের।
এখন দেখার, পুলিশ এই অভিযোগকে FIR হিসেবে গণ্য করে ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে কোন পথে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়।
