তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল তৃণমূল, উত্তপ্ত ভাঙড়ে একের পর এক পঞ্চায়েত এবার আইএসএফের দখলে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
একদা রাজনৈতিক হিংসা ও আতঙ্কের ভরকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ভাঙড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে আমূল পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। রাজ্যে সামগ্রিক রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। একের পর এক বিধায়ক-সাংসদের দলত্যাগ এবং পুরসভা হাতছাড়া হওয়ার পর এবার গ্রামীণ স্তরেও তৃণমূলের হাত থেকে ক্ষমতা ফসকে যাচ্ছে। ভাঙড় ১ নম্বর ব্লকের একের পর এক পঞ্চায়েত এখন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফের নিয়ন্ত্রণে। শাকশহর, প্রাণগঞ্জ ও বোদরার পর এবার জাগুলগাছি পঞ্চায়েতটিও তৃণমূলের হাতছাড়া হলো।
ভয়ের ভাঙড়ে ব্যাপক দলবদল
দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত জাগুলগাছি পঞ্চায়েতে মোট ২৮ জন সদস্য ছিলেন। কিন্তু একযোগে ২৫ জন সদস্য আইএসএফে যোগ দেওয়ায় রাতারাতি রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে গেছে। দলবদলের পর এই পঞ্চায়েতের প্রধান হিসেবে তসলিমা বিবি এবং উপপ্রধান হিসেবে অপর্ণা সর্দারকে পুনরায় নির্বাচিত করা হয়েছে, যাঁরা ২০২৩ সালে তৃণমূলের টিকিটে এই পদে বসেছিলেন। এই মেগা দলবদলের ফলে ভাঙড় ১ নম্বর ব্লকে তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য কার্যত শেষ হয়ে গেল।
তৃণমূলের পতনের কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
আইএসএফ নেতৃত্বের অভিযোগ, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সন্ত্রাস ও ভয় দেখিয়ে বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ফলে ভাঙড় ১ নম্বর ব্লকের ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের সবকটিতেই তৃণমূল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদল হতেই তৃণমূলের সেই জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। বিজেপি তাদের ঘোষিত নীতি অনুযায়ী তৃণমূলের কোনো দলত্যাগী সদস্যকে গ্রহণ না করায়, সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছে আইএসএফ।
এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ভাঙড়ের স্থানীয় প্রশাসনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে চলেছে। পঞ্চায়েত সদস্যদের একাংশের দাবি, বিগত দিনে তৈরি হওয়া ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে এবার দুর্নীতিমুক্ত এবং জনমুখী পঞ্চায়েত গড়াই তাদের মূল লক্ষ্য। তৃণমূলের এই আকস্মিক পতনের ফলে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার এই স্পর্শকাতর অঞ্চলের গ্রামীণ রাজনীতিতে আইএসএফের সাংগঠনিক শক্তি ও জনভিত্তি আরও সুদৃঢ় হলো, যা আগামী দিনের নির্বাচনে শাসকদলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
