তিব্বতের নিচে মহাপ্রলয়ের সংকেত, বদলে যেতে পারে এশিয়ার মানচিত্র! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বের ছাদ নামে পরিচিত তিব্বত মালভূমির গভীরে এক ভয়ঙ্কর ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তনের আভাস পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দাবি করেছেন, ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে তিব্বতের ভূ-গর্ভে এমন কিছু ঘটছে যা কয়েক দশকের পুরনো ভূ-তাত্ত্বিক তত্ত্বকেও চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এই অস্থিরতা ভবিষ্যতে এশিয়ার ভৌগোলিক মানচিত্র আমূল বদলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গবেষণার চাঞ্চল্যকর তথ্যসমূহ:
- তরল শিলার প্রবাহ: সাধারণত পৃথিবীর উপরিভাগ বা ক্রাস্ট কঠিন শিলা দিয়ে গঠিত হয়। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, তিব্বতের নিচে থাকা প্লেটগুলো কঠিন পদার্থের মতো নয়, বরং ঘন তরলের মতো প্রবাহিত হচ্ছে। এই অস্বাভাবিক আচরণ ভূ-বিজ্ঞানীদের রীতিমতো অবাক করেছে।
- পূর্ব দিকে দ্রুত সরণ: ‘সেন্টিনেল-১’ স্যাটেলাইটের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত মালভূমির পূর্ব অংশ প্রতি বছর প্রায় ২৫ মিলিমিটার বেগে পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে। আবার কিছু স্থানে এই গতিবেগ ১০ মিলিমিটার। গতির এই বিশাল পার্থক্যের কারণে ভূ-অভ্যন্তরে ভয়াবহ চাপের সৃষ্টি হচ্ছে।
- কুনলুন ফল্টের দুর্বলতা: গবেষকরা চিহ্নিত করেছেন যে, ‘কুনলুন ফল্ট’ নামক চ্যুতিরেখাটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষে উৎপন্ন বিশাল শক্তি এই দুর্বল পথ দিয়েই বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে, যার ফলে তিব্বতের অভ্যন্তরীণ অংশ এতো দ্রুত স্থানান্তরিত হচ্ছে।
- উল্লম্ব বিচ্যুতি ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি: ভূমিপৃষ্ঠের উচ্চতায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। কোথাও মাটি ৫ মিলিমিটার দেবে যাচ্ছে, আবার কোথাও ৫ মিলিমিটার ওপরে উঠে আসছে। এই উল্লম্ব নড়াচড়াকে বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো মহাপ্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন।
ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর প্রভাব:
প্রায় ২৫ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই তিব্বত মালভূমি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান এবং চীনের সীমান্ত সংলগ্ন। এটি বিশ্বের বৃহত্তম ‘কলিশন জোন’ বা সংঘর্ষ এলাকা। এখানে ঘটে যাওয়া সামান্যতম পরিবর্তনও সমগ্র এশিয়া মহাদেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। হিমালয় অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি এবং নদীগুলোর গতিপথও এর ফলে প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞানীদের সতর্কতা:
লিড রিসার্চার ট্রিম রাইটের মতে, চরম চাপের মুখে একটি মহাদেশ কীভাবে নিজের আকার পরিবর্তন করে, তিব্বতের বর্তমান পরিস্থিতি তার জীবন্ত উদাহরণ। এই নতুন তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে আগামী দিনে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া এবং দুর্যোগ মোকাবিলা প্রস্তুতিকে আরও উন্নত করা সম্ভব হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি যে অত্যন্ত উদ্বেগজনক, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

