তিলজলা অগ্নিকাণ্ডে গ্রেফতার মালিক ও ম্যানেজার, রিপোর্ট পেশ করছে তদন্ত কমিটি

কলকাতার তিলজলায় চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। মঙ্গলবার তপসিয়ার জিজে খান রোডের ওই বহুতলে অগ্নিকাণ্ডে দুই শ্রমিকের মৃত্যুর পর রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে কারখানার মালিক জাফর নিশাদ ও ম্যানেজারকে। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে গঠিত চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি আজ বুধবার বেলা ১১টার মধ্যে তাদের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করতে চলেছে।
অব্যবস্থা ও গাফিলতির অভিযোগ
তিলজলার ওই চারতলা ভবনের দোতলায় চলা চামড়ার কারখানাটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার চরম অভাব ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘিঞ্জি এলাকার ওই বহুতলে দমকলের ঢোকা-বেরোনোর পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। পুলিশ সূত্রে খবর, কারখানাটি দীর্ঘকাল ধরে কোনও বৈধ অনুমতি ছাড়াই চলছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় আতঙ্কে কর্মীরা বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যেখান থেকে পরে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনজনের মধ্যে দু’জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
প্রশাসনের কঠোর অবস্থান
মাত্র কয়েক মাস আগে নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জনের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রাজ্যে আর কোনও বেআইনি কারখানা চলতে দেওয়া হবে না এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলকাতা পুলিশ কমিশনার ও পুর কমিশনারসহ শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত কমিটি ভবনের কাঠামো এবং অগ্নিবিধি লঙ্ঘনের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও হুঁশিয়ারি
পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, শহরজুড়ে গড়ে ওঠা অনিয়মিত ভবন ও জতুগৃহগুলো চিহ্নিত করার কাজ দ্রুত শুরু হবে। বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করে নোটিস পাঠানো এবং প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তিলজলার এই ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে আরও বড় আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে।
