তীব্র গরমে চরম ভোগান্তি আর বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাজেহাল বাংলা, স্বস্তির বার্তা দিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী – এবেলা

তীব্র গরমে চরম ভোগান্তি আর বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাজেহাল বাংলা, স্বস্তির বার্তা দিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তুঙ্গে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও বয়স্কদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানিয়েছেন, মূলত কারিগরি ত্রুটি ও চাহিদার তুলনায় জোগানের ব্যাপক ঘাটতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

উৎপাদন সংকট ও বর্তমান পরিস্থিতি

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় উৎপাদনের ঘাটতি প্রায় ২০০০ মেগাওয়াটের বেশি। বড় দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র—আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। পিজিসিবি-র প্রতিবেদন বলছে, ১৬ হাজার ৬৪৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১৪ হাজার ৪৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা শহরগুলোতে কয়েক ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ের পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে প্রশাসন।

শহর ও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের চিত্র

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে, যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা শহরেও ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। রাজধানীর বুকেও প্রতিদিন অন্তত ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ট্রান্সফরমার ও ফিডারের ওপর চাপ বাড়ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় স্তরেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটাচ্ছে। আপাতত সরকারের দেওয়া এক সপ্তাহের সময়সীমার দিকেই তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

এক ঝলকে

  • বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশে বর্তমানে ২০০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে।
  • গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা এবং শহরাঞ্চলে ৫-৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলছে।
  • গরমের কারণে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধি ও উৎপাদন কেন্দ্রে বিভ্রাটই এই সংকটের প্রধান কারণ।
  • আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মেরামত কাজ শেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *