তীব্র হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তেল ও গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জেরে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ অভিযানের পাল্টায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা শুরু করায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান গ্যাস কেন্দ্র ও বাব তেলক্ষেত্রে ইরানের বিমান হামলার পর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে ইজরায়েল ইরানের দক্ষিণ পার্স প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালালে ইরানও কাতারের স্থাপনায় আঘাত হানে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
যুদ্ধের তীব্রতা বাড়াতে ইজরায়েল ইরানের শীর্ষ গোয়েন্দা মন্ত্রীসহ একাধিক উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা আধিকারিককে হত্যার দাবি করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ ইরান ইজরায়েলের অভ্যন্তরে এবং সৌদি আরব, কুয়েত ও বাহরাইনের জ্বালানি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এই পরিস্থিতির জন্য ‘অপ্রত্যাশিত ভয়াবহ পরিণতির’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একইসঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ইরান, যা বিশ্ববাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি।
এই সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৮ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাও সংকটের মুখে পড়েছে, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল।

