তৃণমূল নেতার রাজপ্রাসাদে গোপন সুড়ঙ্গ, অরূপ-ঘনিষ্ঠের বাড়িতে তল্লাশিতে পুলিশের চোখ কপালে

হাওড়ার শিবপুরে এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বিলাসবহুল বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন পুলিশ আধিকারিকরা। মধ্য হাওড়ার হেভিওয়েট নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায় ঘনিষ্ঠ শামিম আহমেদ ওরফে বড়ের বাড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ কেবল দামী আসবাবই নয়, বরং হদিশ পেয়েছে একটি গোপন সুড়ঙ্গের। ভোট-পরবর্তী হিংসার একটি মামলায় অভিযুক্ত এই নেতার খোঁজে গিয়ে তাঁর জীবনযাপনের এমন জাঁকজমকপূর্ণ ও রহস্যময় চিত্র দেখে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়।
বিলাসবহুল অন্দরমহল ও গোপন সুড়ঙ্গের রহস্য
শিবপুর থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের চওড়া বস্তি এলাকায় শামিমের এই প্রাসাদোপম বাড়িটি বাইরে থেকে যতটা সাধারণ মনে হয়, অন্দরের দৃশ্য ঠিক ততটাই চোখধাঁধানো। তল্লাশির সময় পুলিশ দেখতে পায়, বাড়ির একটি বিশেষ অংশ দিয়ে নিচে নেমে গিয়েছে সুড়ঙ্গ সদৃশ পথ। সুড়ঙ্গের ভেতরে অত্যন্ত উন্নতমানের কারুকার্য করা পালঙ্ক, বহুমূল্য ড্রেসিং টেবিল ও দামী আসবাবপত্র সাজানো রয়েছে, যা অনেকটা সিনেমার সেটের মতো। এমনকি ঘরের দরজার নেমপ্লেটে শামিমের নাম খোদাই করা রয়েছে। পুলিশের অনুমান, কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে আত্মগোপন বা মূল্যবান সামগ্রী লুকিয়ে রাখতেই এই বিশেষ পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল।
সহিংসতা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই এলাকা দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ছিল শিবপুর। অভিযোগ, বিজেপির এক সংখ্যালঘু সেলের নেতার বাড়িতে বোমাবাজি ও গুলি চালানোর ঘটনায় মূল পাণ্ডা ছিলেন এই শামিম আহমেদ। ঘটনার পর থেকেই তিনি ফেরার। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, অরূপ রায়ের ছত্রছায়ায় থেকেই এলাকায় মাদক ব্যবসা, প্রোমোটিং সিন্ডিকেট এবং সন্ত্রাসের রাজত্ব চালাতেন শামিম। বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের মতে, হাওড়া শহরকে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে এবং প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়েই এই সব বেআইনি কর্মকাণ্ড চলত। রাজ্য রাজনীতিতে এখন বড় প্রশ্ন, এই গোপন সুড়ঙ্গের আড়ালে আরও কোনো বড় দুর্নীতির নথি বা সম্পদ লুকানো রয়েছে কি না।
