‘তৃণমূল বলে আর কিছু নেই!’ অনাস্থা ভোটে পদচ্যুত মালদার জেলা সভাধিপতি, তুঙ্গে রাজনৈতিক চর্চা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মালদা জেলা পরিষদে বড়সড় রাজনৈতিক রদবদল। দলেরই একাংশের অসন্তোষ ও অনাস্থা প্রস্তাবের জেরে পদচ্যুত হলেন তৃণমূল পরিচালিত মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ এবং সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন।
সোমবার দুপুরে জেলা পরিষদের কনফারেন্স হলে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে এক তলবি সভার আয়োজন করা হয়। মোট ৪৩টি আসনের মধ্যে ২৪ জন সদস্য সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতিকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেন। এর মধ্যে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর ১৯ জন এবং কংগ্রেসের ৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন জানাতে কংগ্রেস নেত্রী মৌসম বেনজীর নূরও দলীয় সদস্যদের নিয়ে সভায় হাজির হন।
সভা শেষে শাসকদলের বিক্ষুব্ধ সদস্য শামসুল হক ও প্রতিভা সিংহ জানান, নিয়ম মেনে অনাস্থা প্রস্তাব পাস হয়েছে এবং প্রশাসন সূত্রে সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে নতুন সভাধিপতি নির্বাচন করা হবে। অন্যদিকে, পরবর্তী পদক্ষেপ দলীয় স্তরে আলোচনা করে নেওয়া হবে বলে জানান মৌসম নূর।
উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩৪টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জেলা পরিষদের ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল। তবে পরবর্তীকালে সভাধিপতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে তৃণমূলেরই এক অংশ ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয়, যা পরবর্তীতে হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে প্রাক্তন সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “তৃণমূল বলে এখন আর কিছু নেই, তাই পদে থেকেও কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না।” তিনি জানান, তিনি আগেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন এবং সোমবারের সভায় উপস্থিত ছিলেন না।
