তৃণমূল শিবিরে বড় ভাঙন, এবার বিদ্রোহী সাংসদদের দলে নাম লেখালেন সায়নী ঘোষ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
একের পর এক ধাক্কায় টালমাটাল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। সুখেন্দু শেখর রায় এবং সুস্মিতা দেবের পদত্যাগের গুঞ্জনের মাঝেই এবার দলত্যাগের মিছিলে নাম লিখিয়েছেন যাদবপুরের সাংসদ তথা যুব তৃণমূল সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। সূত্রের খবর, তৃণমূলের প্রায় ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন এবং লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় সায়নীর স্বাক্ষর থাকা চিঠিটি বঙ্গ রাজনীতিতে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
মমতা-অভিষেকের আস্থাভাজন থেকে দূরত্ব
বাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ভরসাস্থল হিসেবে পরিচিত ছিলেন সায়নী ঘোষ। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁর সাংগঠনিক দায়িত্ব যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনই ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি সংসদীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। সদ্য ঘোষিত দলীয় কমিটিতেও তাঁকে যুব তৃণমূলের সভানেত্রী পদে পুনরায় বহাল রাখা হয়েছিল। কিন্তু এতকিছুর পরেও হঠাৎ করে তাঁর এই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার নেপথ্যে দলের অন্দরের ক্ষোভ, মতাদর্শগত দূরত্ব বা রাজনৈতিক महत्वाकांक्षा কাজ করে থাকতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
দল ও রাজ্য রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূলের মতো একটি প্রতিষ্ঠিত দলে একসঙ্গে ২০ জন সাংসদের বেসুরো হওয়া এবং বিরোধী শিবিরে ঝুঁকে পড়া শাসক শিবিরের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক সংকট। সায়নী ঘোষের মতো প্রথম সারির ও তরুণ মুখ দল ছাড়লে তা তৃণমূলের যুব সংগঠনে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে শাসক দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ্যে এনে বিরোধী দল বিজেপিকে আরও কোনঠাসা করার সুযোগ করে দেবে এবং আগামী দিনে দল ভাঙার এই প্রবণতা রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
