তৃণমূলে বড়সড় ভাঙন! ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে ঐক্যের বদলে রাহুলের কড়া নিশানায় জোড়াফুল – এবেলা

তৃণমূলে বড়সড় ভাঙন! ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে ঐক্যের বদলে রাহুলের কড়া নিশানায় জোড়াফুল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে বিরোধী ঐক্যের বার্তার মাঝেই প্রকাশ্যে এল চরম বিভ্রান্তি ও অন্তর্দ্বন্দ্ব। একদিকে যখন লোকসভায় ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের এনডিএ শিবিরে যোগদানের খবরে বঙ্গ রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই জোটের বৈঠকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর পরোক্ষ নিশানায় বিদ্ধ হলো তৃণমূল কংগ্রেস। জাতীয় স্তরে বিরোধী জোটে তৃণমূলের নেতৃত্ব দেওয়ার যে দাবি একসময় করা হতো, দলের এই আকস্মিক ভাঙন এবং শরিকি দ্বন্দ্বে সেই হাওয়া এখন অনেকটাই উল্টোদিকে ঘুরে গিয়েছে।

ভাঙনের মুখে জোড়াফুল এবং রাহুলের কড়া বার্তা

বিধানসভা নির্বাচনের পর প্রথমবার দিল্লি সফরে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিজেপির বিরুদ্ধে আগ্রাসীভাবে দল ভাঙানোর অভিযোগ তুলছেন, তখন জোটের অন্দরের ফাটল আরও স্পষ্ট করে দেন রাহুল গান্ধী। বৈঠকে তিনি নাম না করে তৃণমূল ও বামেদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ, জোটের অংশ হয়েও কিছু দল প্রকাশ্য মঞ্চে কংগ্রেসকে নিশানা করছে এবং ভোট চুরির মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় লড়াইয়ে তাদের থেকে আশানুরূপ সমর্থন মিলছে না। অহংকার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভুলে একজোট হওয়ার কড়া বার্তা দেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, রাহুলের এই বক্তব্যের সময় মমতা বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নীরব ছিলেন। তৃণমূলের এই আকস্মিক সংসদীয় ভাঙন এবং কংগ্রেসের এই প্রকাশ্য অনাস্থা জোটের ভারসাম্যকে রীতিমতো প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য প্রভাব

অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ এবং অবিশ্বাস সত্ত্বেও মোদী সরকারকে কোণঠাসা করতে বেশ কিছু সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী শিবির। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা ‘সার’ প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হচ্ছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। পাশাপাশি, নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা এবং অর্থনৈতিক ইস্যুতে সর্বদলীয় বৈঠকের আর্জি জানানোর রূপরেখা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, জোটের এই সম্মিলিত আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতে শাসক দলের উপর কিছুটা চাপ বাড়াতে পারে। তবে তৃণমূলের মতো বড় শরিকের আকস্মিক দুর্বলতা এবং শরিক দলগুলির মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপের কারণে বিরোধী জোটের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আখেরে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *