তৃণমূলের অন্দরে নজিরবিহীন বিদ্রোহ, শতাব্দী-সায়নীসহ ১৯ সাংসদের আলাদা বসার আবেদন – এবেলা

তৃণমূলের অন্দরে নজিরবিহীন বিদ্রোহ, শতাব্দী-সায়নীসহ ১৯ সাংসদের আলাদা বসার আবেদন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তৈরি হয়েছে গভীর রাজনৈতিক সংকট। বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না পাওয়ার জেরে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে পুরনো ও নতুন নেতাদের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। যার ফলশ্রুতিতে এবার লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত মিলল। সায়নী ঘোষ ও শতাব্দী রায়সহ ১৯ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ লোকসভায় আলাদা আসন চেয়ে স্পিকারের দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জমা দিয়েছেন।

পদত্যাগের হিড়িক ও পরিষদীয় দলের সংকট

লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও ইস্তফার হিড়িক দেখা গেছে। গত এক সপ্তাহে পরপর পদত্যাগ করেছেন রাজ্যসভার একাধিক সাংসদ। ৮ জুন সুখেন্দু শেখর রায় দল ও সাংসদ পদ ছাড়ার পর, ১০ জুন সুস্মিতা দেব এবং পরবর্তীতে প্রকাশ চিক বরাইক রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন। এই একের পর এক পদত্যাগ দলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে। অন্যদিকে, বিধানসভার অন্দরেও এই ভাঙনের আঁচ এসে পড়েছে। বিক্ষুব্ধ বিধায়করা দাবি করেছেন, তাঁদের শিবিরে বর্তমানে ৬৪ জন বিধায়ক রয়েছেন এবং তাঁরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে খুব শীঘ্রই স্পিকারের কাছে চিঠি দেবেন।

এনডিএ যোগের জল্পনা ও দলত্যাগ বিরোধী আইন

সাম্প্রতিক এই বিদ্রোহের পেছনে বিধানসভা ভোটের ফল বিপর্যয় এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভকে প্রধান অনুঘটক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবসহ রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের খবর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা উসকে দিয়েছে। তবে সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী, আইনি জটিলতা এড়িয়ে দল ভাঙতে গেলে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। সার্বিক এই টানাপোড়েন রাজ্যের শাসক দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কতটা গভীর প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *