তৃণমূলের পার্টি অফিস এখন বিজেপি বিধায়কের কার্যালয়! দখল-বিতর্কে মুখ খুললেন পাপিয়া – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষমতা হস্তান্তরের নানা চিত্র উঠে আসছে। এবার খাস কলকাতার টালিগঞ্জে একটি প্রাক্তন তৃণমূল পার্টি অফিসকে ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক জল্পনা। স্থানীয়দের কাছে অরূপ বিশ্বাসের কার্যালয় হিসেবে পরিচিত একটি ঠিকানায় সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর বোর্ড ঝোলানোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে দখলদারির বিতর্ক।
বিতর্কের কেন্দ্রে তৃণমূলের পুরনো কার্যালয়
টালিগঞ্জের ৬/৪৫, বিজয়গড়, সমাজগড়ের ওই ঠিকানায় গত ১৫ জুন থেকে বিধায়কের সরকারি কার্যালয় হিসেবে কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নতুন বোর্ডের ওপর লাগানো একটি সাদা কাগজ সরালেই এখনও প্রাক্তন তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাসের নাম জ্বলজ্বল করছে। এই জল্পনাকে ঘিরেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে এই কার্যালয় থেকেই সোম থেকে শনিবার পর্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে কাজ শুরু করেছেন বিধায়ক।
দখল নয় আইনি চুক্তি, দাবি বিধায়কের
দখলদারির সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। তাঁর দাবি, এই কার্যালয়টি কোনওভাবেই জোর করে দখল করা হয়নি। সম্পত্তির প্রকৃত পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যাঁর নামে রয়েছে, তাঁর সঙ্গে সম্পূর্ণ বৈধ চুক্তি করে নিজের অর্থে জায়গাটি নিয়েছেন তিনি। রীতিমতো পুজো করে আইন মেনে তবেই সেখানে জনসেবার কাজ শুরু করা হয়েছে।
রাজ্যে পালাবদলের পর বিরোধী দলের কোনও কার্যালয় বা সম্পত্তি দখল না করার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই কড়া নির্দেশের প্রেক্ষাপটে টালিগঞ্জের এই কার্যালয়টির হাতবদল রাজনৈতিক মহলে জল্পনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে বিধায়কের স্পষ্ট বক্তব্যের পর বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। এর ফলে এই ঘটনাটি নিছক দখলদারির অভিযোগের গণ্ডি পেরিয়ে একটি আইনি জনসংযোগ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে, যা আগামী দিনে এলাকায় নতুন রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
