তৃণমূলের পাল্টা এবার বিজেপি! রবিবার থেকে রাজ্যজুড়ে স্ট্রংরুম ‘পাহারায়’ নামছে পদ্মশিবিরের মহিলা বাহিনী

ভোটগণনার আগে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল বিজেপি। রবিবার সকাল থেকেই রাজ্যের প্রতিটি স্ট্রংরুমের সামনে অবস্থানে বসছেন বিজেপির মহিলা কর্মীরা। সোমবার সকালে গণনাকেন্দ্রে দলের প্রার্থী ও কাউন্টিং এজেন্টরা পৌঁছানো না পর্যন্ত এই ‘পাহারা’ কর্মসূচি চলবে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। মূলত ইভিএমের সুরক্ষা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই গেরুয়া শিবিরের এই কৌশল।
পাল্টা কৌশল ও রাজনৈতিক উত্তাপ
রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট মিটে যাওয়ার পর থেকেই স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে দফায় দফায় বিবাদ তৈরি হয়েছে। কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানের পাল্টা হিসেবে বিজেপিও এবার সক্রিয় রাজপথে। বিশেষ করে সিসিটিভি মনিটর বিভ্রাট বা সন্দেহজনক গতিবিধির যেসব অভিযোগ সামনে আসছে, তা রুখতেই মহিলা কর্মীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে পদ্মশিবির।
সুরক্ষা ও ধর্মীয় আচারের সমন্বয়
গণনার আগের দিনটিকে বিজেপি রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক— উভয়ভাবেই কাজে লাগাতে চাইছে। একদিকে যখন মহিলা কর্মীরা রাতভর স্ট্রংরুম পাহারা দেবেন, অন্যদিকে রবিবারই দলের সব প্রার্থী ও সাংসদ নিজ নিজ এলাকার মন্দিরে পুজো দেবেন। কমিশনের নিরাপত্তাবলয় থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলোর এই বাড়তি সতর্কতা সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিশেষ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
প্রভাব ও পরিণতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্রংরুম পাহারার এই প্রতিযোগিতা আসলে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের অংশ। এর ফলে গণনাকেন্দ্রের আশপাশে বাড়তি জমায়েত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে দলগুলোর দাবি, ভোট পরবর্তী কারচুপি রুখতে এবং কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতেই এই ধরণের প্রত্যক্ষ নজরদারি প্রয়োজন।
এক ঝলকে
- রবিবার সকাল থেকে রাজ্যের সব স্ট্রংরুমের সামনে পাহারায় বসছেন বিজেপির মহিলা কর্মীরা।
- সোমবার সকালে গণনাকেন্দ্রে এজেন্টরা না আসা পর্যন্ত চলবে এই অবস্থান কর্মসূচি।
- ইভিএম সুরক্ষা নিয়ে তৃণমূলের অবস্থানের পাল্টা জবাব হিসেবেই বিজেপির এই রণকৌশল।
- পাহারার পাশাপাশি রবিবার জেলায় জেলায় মন্দিরে পুজো দেবেন বিজেপি প্রার্থীরা।
