তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের আবেদন অরূপের, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা চালে ভেস্তে গেল পরিকল্পনা! – এবেলা

তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের আবেদন অরূপের, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা চালে ভেস্তে গেল পরিকল্পনা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন সংঘাতের চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত অরূপ বিশ্বাস এবার দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বকে বড়সড় চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছেন। গত ১২ জুন তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি পাঠিয়ে তৃণমূলের মূল ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ বা লেনদেন স্থগিত করার আবেদন জানান। চিঠিতে নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ দাবি করে সংসদীয় ও পরিষদীয় দলে ভাঙন এবং তহবিলের নিরাপত্তা নিয়ে জটিলতার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কাছে অরূপের এই পরিকল্পনা বড় ধাক্কা খেয়েছে।

তহবিল নিয়ে টানাপোড়েন ও নেপথ্যের কারণ

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অরূপ বিশ্বাসের এই আবেদনকে কোনো মান্যতা দিচ্ছে না। কারণ, অরূপ বিশ্বাসের পদক্ষেপের আঁচ পেয়েই গত ৫ জুন সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে শুভাশিস চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের সমস্ত রেজুলিউশন ও মিনিটস আগেই ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছিল। মূলত বেশ কিছুদিন ধরেই কালীঘাটের দলীয় বৈঠকে অরূপ বিশ্বাসের সাথে নেতৃত্বের তর্কাতর্কি ও দূরত্ব বাড়ছিল। এছাড়া, ‘মেসিকাণ্ড’ নামক একটি আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অরূপের নাম জড়ানো এবং বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশের হাজিরা এড়িয়ে নিখোঁজ থাকার বিষয়টি দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সাথে অরূপের গোপন যোগাযোগের জল্পনা তৈরি হওয়ার পর পরই দল তাঁর বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব

এই ঘটনার ফলে শাসক দল তৃণমূলের অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের বড়সড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। একদিকে কলকাতা হাইকোর্ট ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর তাঁর শিবিরও এখন তৃণমূলের দলীয় অ্যাকাউন্টের ওপর নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এই পরিস্থিতিতে দলের তহবিল সুরক্ষিত রাখতে তৃণমূলের নতুন কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অরূপ বিশ্বাসের এই চিঠি দেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, আগামী দিনে দলীয় প্রতীক ও সম্পত্তির অধিকার নিয়ে আইনি এবং রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র রূপ ধারণ করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *