তেল বাণিজ্যে ‘পেট্রো-ইউয়ান’, ইরানের শর্তে ভারতের অর্থনীতিতে উদ্বেগের ছায়া – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত যুদ্ধের আবহে বিশ্ব রাজনীতিতে চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে ইরানের নতুন রণকৌশল। হরমুজ় প্রণালীতে আটকে থাকা তেলের ট্যাঙ্কারগুলি ছাড়ার বিনিময়ে তেহরান শর্ত দিয়েছে যে, এখন থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের লেনদেন মার্কিন ডলারের পরিবর্তে চিনা মুদ্রা ইউয়ানে করতে হবে। কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে আধিপত্য বিস্তার করা ‘পেট্রো-ডলার’ ব্যবস্থাকে হঠিয়ে ‘পেট্রো-ইউয়ান’ প্রতিষ্ঠার এই চেষ্টা আমেরিকার জন্য যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি ভারতের জন্যও এটি গভীর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর। বিশেষ করে ওই এলাকায় ভারতের ২২টি তেলের জাহাজ আটকে থাকায় নয়াদিল্লি কৌশলগত চাপে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি তেলের বাণিজ্যে চিনা মুদ্রার আধিপত্য বাড়ে, তবে ভারতীয় শেয়ারবাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ডলারের পতন হলে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে থাকা আমেরিকান বন্ডের মূল্য কমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে, যা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের জন্য পরিস্থিতি সামলানো কঠিন করে তুলবে।
ভারত ও চিনের মধ্যে বিদ্যমান সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইউয়ানের এই জয়যাত্রা নয়াদিল্লির কাছে একেবারেই কাম্য নয়। চিনা মুদ্রা বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী হলে বেজিংয়ের আর্থিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা ভারতের কৌশলগত স্বার্থের পরিপন্থী। যদিও ভারত বর্তমানে রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের পথ খোলা রেখেছে, তবুও আন্তর্জাতিক তেল অর্থনীতিতে ইউয়ানের এই সম্ভাব্য ‘অনুপ্রবেশ’ রুখতে মোদী সরকারকে বহুমুখী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

