তৈল সংকটে কাঁপবে না ভারত! হরমুজ প্রণালী রুখতে দিল্লির মাস্টারস্ট্রোক – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসতেই নড়েচড়ে বসল ভারত। আমেরিকা ও ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের হাহাকার তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালী যদি যুদ্ধের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে ভারতের তেল আমদানিতে বড়সড় ধস নামতে পারত। কিন্তু মোদী সরকার হাত গুটিয়ে বসে না থেকে যুদ্ধের আঁচ মোকাবিলায় এক অভাবনীয় বিকল্প পথের ছক কষে ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যদি যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ভারত বা ইউরোপে পৌঁছানো আসাম্ভব হয়ে পড়বে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে নয়াদিল্লি এখন পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর জোর দিচ্ছে। নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা এবং গিনির মতো দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই পথ দিয়ে তেল আনতে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভর করতে হয় না, ফলে যুদ্ধের বাজারেও ভারতের চাকা সচল রাখা সম্ভব হবে।
ভারতের জ্বালানি মন্ত্রক সূত্রের খবর, কেবল আফ্রিকা নয় বরং আমেরিকা ও ব্রাজিল থেকেও তেল আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে যাতে তার প্রভাব না পড়ে, সেজন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’ বা তেলের মজুত ভাণ্ডার বাড়ানোর কাজও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের স্নায়ুযুদ্ধে যখন বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল, তখন ভারতের এই আগাম প্রস্তুতি দেশের অর্থনীতিকে এক বিশাল বিপর্যয় থেকে রক্ষা করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

