‘তোলাবাজি করলে দল থেকে ছাঁটাই!’— বঙ্গ-বিজেপি বিধায়কদের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি শমীকের – এবেলা

‘তোলাবাজি করলে দল থেকে ছাঁটাই!’— বঙ্গ-বিজেপি বিধায়কদের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি শমীকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ হতে চলেছে আগামী বুধবার। এই উপলক্ষ্যে যখন সরকারের ১০০ দিনের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে ব্যাপক প্রচারের প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই দলীয় বিধায়কদের একাংশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কাটমানি, তোলাবাজি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন— প্রয়োজন হলে ২০ থেকে ৩০ জন বিধায়ককে দল থেকে বের করে দিতেও শীর্ষ নেতৃত্ব পিছপা হবে না।

রবিবার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিজেপির এক রুদ্ধদ্বার প্রশিক্ষণ শিবিরে দলের দুই কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা সুনীল বনসল ও শিবপ্রকাশের উপস্থিতিতে এই সুর চড়ান রাজ্য সভাপতি। সভায় বিভিন্ন জেলার সভাপতি, বিধায়ক, রাজ্য পদাধিকারী ও মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

দলীয় সূত্রে খবর, সভার মঞ্চ থেকে শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি বলেন, “আমাদের বেশ কয়েকজন বিধায়কের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, কাটমানি এবং দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের ভূরি ভূরি অভিযোগ আসছে। এসব কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” বিধায়কদের সতর্ক করে তিনি মনে করিয়ে দেন, “আমাদের ২০৮ জন বিধায়ক রয়েছে। এখান থেকে ২০-৩০ জন কমে গেলেও সরকারের অস্তিত্ব নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও কথা হয়েছে।”

নিজ শক্তিতে নয়, দলের জন্যেই প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি সংযোজন করেন, “কেউ ভাববেন না যে আপনারা নিজেদের ক্ষমতায় জিতেছেন। দলের লড়াইয়ের কারণেই আজ এই জয়। তাই এমন কিছু করবেন না যাতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। যারা ভোটে হেরেও তোলাবাজির দোকান খুলে বসেছেন, দলের কাছে কিন্তু তাদের সবার খবর আছে।”

উল্লেখ্য, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইতোমধ্যে প্রায় আড়াইশো জন নেতা-কর্মীকে শো-কজ করা হয়েছে এবং প্রায় ২৫ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ও কয়েকজন বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই আবহে দল ও প্রশাসন— উভয় স্তরেই যে কড়া নজরদারি চলছে, তা রবিবারের বৈঠক থেকেই পরিষ্কার করে দেওয়া হলো।

অন্যদিকে, বঙ্গ-বিজেপি সভাপতির এই অবস্থানকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “শমীকবাবু হয়তো মন থেকেই বলছেন, কিন্তু বিজেপির কাজের সঙ্গে কথার মিল নেই। এক দিকে নিজের দলের ২০-২৫ জনকে তাড়ানোর কথা বলছেন, আর অন্য দিকে তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্তদেরই দলে টেনে নিচ্ছেন।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *