দল দেখে ভোট দেন, না কি প্রার্থী দেখে! ভোটের মরসুমেও আমি ভীতু, বিস্ফোরক ঊষা উত্থুপের গলায় কি প্রতিবাদের সুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আবহে তারকা ভোটারদের ভাবনাচিন্তা সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সেই ধারা বজায় রেখেই পপ তারকা ঊষা উত্থুপ তাঁর সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ভোট এবং রাজনীতি নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, স্বাধীন দেশেও আজ কিছু বলতে গিয়ে তিনি ‘ভয়’ পান। প্রথিতযশা এই শিল্পীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যেমন শোরগোল ফেলেছে, তেমনই এক গভীর সামাজিক সংকটের দিকে ইঙ্গিত করেছে।
রাজনীতি ও দুর্নীতির উৎস
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির প্রসঙ্গে ঊষা উত্থুপ বলেন, অনৈতিকতার বীজ বপন হয় ছোটবেলা থেকেই। তাঁর মতে, পরীক্ষার ফল ভালো করার জন্য ঈশ্বরকে পুজোর টোপ দেওয়া বা উপহারের প্রতিশ্রুতি আসলে এক প্রকার দুর্নীতিরই প্রাথমিক রূপ। তিনি মনে করেন, রাজনীতির আঙিনায় দুর্নীতি দূর করা বাইরে থেকে সম্ভব নয়; এর জন্য মানুষের অন্তর থেকে শুদ্ধিকরণ প্রয়োজন। এছাড়া রাজনীতিতে অপশব্দ প্রয়োগ বা কুরুচিকর মন্তব্যেরও ঘোর বিরোধী এই বর্ষীয়ান শিল্পী। তিনি লালন ভিখারীের গানের পঙক্তি উল্লেখ করে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদহীন ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।
উন্নয়ন এবং ভাতার রাজনীতি
উন্নয়ন ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শিল্পী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দেশের শান্তি ও ঐক্যই সবচেয়ে বেশি কাম্য। তবে উন্নয়নের মাধ্যমে সেই শান্তি এলে তা সবথেকে কার্যকরী হয়। সরকারি ভাতা বা অনুদান প্রকল্পের প্রসঙ্গে তাঁর অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। তিনি মনে করেন, এই ব্যবস্থা মানুষকে কর্মবিমুখ ও অলস করে তোলে। এছাড়া উপযুক্ত প্রাপক নির্বাচন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পগুলি প্রশ্নের মুখে পড়ে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পছন্দের রাজনীতিকদের তালিকায় শিল্পী যেমন জ্যোতি বসু, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় বা ইন্দিরা গান্ধীর মতো অভিজ্ঞদের নাম রেখেছেন, তেমনই তরুণ প্রজন্মের রাঘব চাড্ডা বা আন্নামালাইয়ের প্রতিও ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। বিরোধীশূন্য রাজনীতিকে অস্বাস্থ্যকর আখ্যা দিয়ে তিনি গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার বার্তা দিয়েছেন। এই সামগ্রিক বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে, একজন সচেতন ভোটার হিসেবে ঊষা উত্থুপ কেবল গ্ল্যামার নয়, বরং নৈতিকতা ও প্রজ্ঞার প্রতিফলন দেখতে চান আজকের রাজনীতিতে।
এক ঝলকে
- পপ তারকা ঊষা উত্থুপ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে ‘ভয়’ পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
- সরকারি অনুদান বা ভাতার রাজনীতির বিরোধিতা করে তিনি উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের পক্ষে সওয়াল করেছেন।
- রাজনীতিতে কুরুচিকর ভাষার ব্যবহারকে তিনি ‘ক্ষমার অযোগ্য’ অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছেন।
- সুস্থ গণতন্ত্রের স্বার্থে সবল বিরোধী পক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত মানসিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিল্পী।
