দলবদলের হাওয়া নাকি বেসুরো সুর! মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে জুনের বিস্ফোরক নালিশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজ্যের প্রশাসনিক বৈঠকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ক্ষোভ যেভাবে প্রকাশ্যে এল, তা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার কোলাঘাটে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি হন মেদিনীপুরের তৃণমূল সাংসদ জুন মালিয়া। মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই তিনি অভিযোগ করেন, গত দুই বছর ধরে দলের একাংশের অসহযোগিতায় তাঁকে সংসদীয় এলাকায় কোনো কাজই করতে দেওয়া হয়নি।
তারকা সাংসদের বিস্ফোরক অভিযোগ
এদিনের বৈঠকে জুন মালিয়া অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, ২০২৪ সালে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরও দলীয় রাজনীতির মারপ্যাঁচে তিনি মেদিনীপুরের সাধারণ মানুষের স্বার্থে কোনো বড় উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারেননি। আসাম্পূর্ণ কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান। উল্লেখ্য, এই প্রশাসনিক বৈঠকের ঠিক চব্বিশ ঘণ্টা আগেই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছিল, যা তাঁর এই বিস্ফোরক নালিশের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভোলবদল ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামোতে যে ফাটল ধরেছে, এই ঘটনা তারই সরাসরি প্রতিফলন। অতীতে রূপোলি জগতের তারকাদের রাজনীতিতে এনে জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিলেও, দলের চরম দুঃসময়ে তাদের একাংশের এই ভিন্ন সুর বেজে ওঠার প্রবণতা স্পষ্ট। দল যখন অস্তিত্বের সংকটে, তখন তারকা সাংসদদের এই দলবদলের মানসিকতা ঘাসফুল শিবিরের ভিত আরও দুর্বল করে দিচ্ছে। অন্যদিকে, একই বৈঠকে উপস্থিত ঘাটালের সাংসদ দেব ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি তুললে মুখ্যমন্ত্রী তা রূপায়ণের ইতিবাচক আশ্বাস দেন। সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে এগোচ্ছে, এই বৈঠক তা অনেকটাই স্পষ্ট করে দিল।
