দলীয় কোন্দল আর প্রশাসনিক জটিলতায় ভাঙনের মুখে দমদম পুরসভা! ইস্তফা দিলেন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান – এবেলা

দলীয় কোন্দল আর প্রশাসনিক জটিলতায় ভাঙনের মুখে দমদম পুরসভা! ইস্তফা দিলেন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের একের পর এক পুরসভায় জনপ্রতিনিধিদের ইস্তফার মিছিলে এবার যুক্ত হলো দমদম পুরসভা। ব্যারাকপুরের পর ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এবার পদত্যাগ করলেন দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান হরিন্দর সিংহ এবং ভাইস চেয়ারম্যান বরুণ নট্ট। মঙ্গলবার পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে তাঁরা নিজেদের ইস্তফাপত্র জমা দেন। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর যেভাবে একের পর এক পুর বোর্ড ভেঙে পড়ছে, সেই তালিকায় দমদমের নাম যুক্ত হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

পরিষেবা বিভ্রাট ও কর্মী সংকট

দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে কাউন্সিলর এবং প্রায় এক যুগ ধরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলানো হরিন্দর সিংহের ইস্তফার পেছনে উঠে এসেছে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কথা। পদত্যাগের পর তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে পুরসভায় নতুন কোনো কর্মী নিয়োগ না হওয়ায় তীব্র কর্মী সংকট তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রতিদিন নানা নাগরিক পরিষেবা পাওয়ার আশায় পুরসভায় এলেও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে তাঁদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হলেও রাজ্য সরকারের নতুন নীতিমালার কারণে তাঁদের দিয়েও আর কাজ করানো সম্ভব হচ্ছিল না। ফলস্বরূপ, সামগ্রিক পুর পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে। একজন অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই ব্যর্থতার দায় নিয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও অস্থিরতা

দমদম পুরসভার এই ভাঙন রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় ধাক্কা। এর ঠিক আগের দিনই দীর্ঘ ১৭ বছর ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা উত্তম দাস তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ ও কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পরপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ পুরসভার শীর্ষ নেতৃত্বের এই প্রস্থান তৃণমূল শিবিরের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং সাংগঠনিক দুর্বলতাকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক কিছু নীতি এবং দলের অন্দরের ফাটলই এই ইস্তফার মূল কারণ। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের নাগরিক পরিষেবা পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে, অন্যদিকে তেমনই আগামী দিনে এই অঞ্চলগুলোর রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *