দলে বিদ্রোহের মুখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার, পদত্যাগ দাবি করলেন ৭০ জন সাংসদ

দলে বিদ্রোহের মুখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার, পদত্যাগ দাবি করলেন ৭০ জন সাংসদ

ব্রিটেনের রাজনীতিতে বড়সড় সংকটের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সরকার পরিচালনায় চরম ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে এবার খোদ নিজের দল লেবার পার্টির মধ্যেই বিদ্রোহের শিকার হয়েছেন তিনি। হাউস অফ কমন্সে লেবার পার্টির ৭০ জন সদস্য যৌথ বিবৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই চারজন পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি (পিপিএস) পদত্যাগ করায় স্টারমার সরকারের ওপর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।

নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ও পদত্যাগের দাবি

বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সাফ দাবি, স্টারমার লেবার পার্টিকে নেতৃত্ব দেওয়ার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন। তাঁদের মতে, ২০২৯ সালের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দলের জয় পাওয়া কার্যত আসাম্ভব। এই প্রেক্ষাপটে এখনই নেতৃত্ব পরিবর্তন না করলে দলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে তাঁরা মনে করছেন। গত সপ্তাহে ব্রিটেনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয় ফলাফল এই বিদ্রোহের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। নবীন নেতৃত্বের বড় অংশই এখন সরকারের প্রশাসনিক দিক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

গদি বাঁচাতে সময়ের আবেদন স্টারমারের

এমন টালমাটাল পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে সোমবার দলের এক জরুরি সভায় বসেন কিয়ার স্টারমার। সেখানে তিনি সাংসদদের কাছে দেশের আর্থিক পরিস্থিতি মেরামতের জন্য কিছুটা বাড়তি সময় চেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, দেশের অর্থনৈতিক হাল ফেরাতে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। স্টারমার সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে নেতৃত্বে রদবদল ঘটলে দেশে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। নিজেকে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে দল ও দেশের মঙ্গলের জন্য পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ভবিষ্যৎ নিয়ে দোদুল্যমানতা ও রাজনৈতিক প্রভাব

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ অনেক দিন ধরেই দানা বাঁধছিল, যা এখন প্রকাশ্যে এল। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জুনিয়র সাংসদ বা পিপিএস-দের পদত্যাগ সরকারের অন্দরের ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক দিন স্টারমারের জন্য অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী তাঁদের দাবিতে অনড় থাকলে ডাউনিং স্ট্রিটে আমূল পরিবর্তন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। শেষ পর্যন্ত স্টারমার নিজের গদি বাঁচাতে পারেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *