দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে সরল ‘ধাম’, সনাতনীদের ভাবাবেগ রক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর! – এবেলা

দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে সরল ‘ধাম’, সনাতনীদের ভাবাবেগ রক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে অবশেষে সরিয়ে নেওয়া হলো ‘ধাম’ শব্দটি। এবার থেকে এই স্থাপনাটি ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ বা ‘দিঘা জগন্নাথ মন্দির’ নামে পরিচিত হবে। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির কাছ থেকে একটি বিশেষ চিঠি পাওয়ার পরই এই বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্রের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী এই পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেন। তবে নামের এই পরিবর্তনের ফলে মন্দিরের নিত্যপূজা বা ধর্মীয় রীতিনীতিতে কোনও প্রভাব পড়বে না, প্রতিদিন নিয়ম মেনেই সেখানে জগন্নাথ দেবের পুজো সম্পন্ন হবে।

বিতর্কের কারণ ও সনাতনীদের আপত্তি

সনাতন সংস্কৃতি ও হিন্দু ধর্ম শাস্ত্র অনুসারে, আদি শঙ্করাচার্য প্রতিষ্ঠিত পবিত্র চারধামের অন্যতম একটি হলো ওড়িশার পুরী। বাকি তিনটি ধাম হলো বদ্রীনাথ, দ্বারকা এবং রামেশ্বর। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে দিঘায় নির্মিত নতুন জগন্নাথ মন্দিরের নামকরণে ‘ধাম’ শব্দ যুক্ত করে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ ধাম কালচারাল সেন্টার’ রাখা হয়েছিল। শাস্ত্রীয় নিয়ম লঙ্ঘন করে যে কোনও সাধারণ মন্দিরকে ‘ধাম’ আখ্যা দেওয়ায় ওড়িশাবাসীসহ বিশ্বজুড়ে থাকা জগন্নাথ ভক্তদের মনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীনই শুভেন্দু অধিকারী এই নামকরণের বিরোধিতা করেছিলেন। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো চিঠিতেও স্পষ্টভাবে জানানো হয়, এই শব্দ ব্যবহার সনাতন সংস্কৃতির পরিপন্থী এবং তা ভক্তদের ভাবাবেগকে আঘাত করেছে।

সিদ্ধান্তের প্রভাব ও ইসকনের প্রতিক্রিয়া

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাস্টি তথা ইসকন কলকাতার সহ-সভাপতি রাধারমণ দাস। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে আগে থেকেই তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছিলেন এবং এই সিদ্ধান্ত সনাতন ধর্মের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করবে। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, হিডকোর মূল টেন্ডারেও এই স্থাপনাটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেই নথিভুক্ত রয়েছে। অতীতে পূর্বতন সরকারের আমলে ‘দুয়ারে প্রসাদ’ বিতরণ ঘিরে ওঠা বিভিন্ন বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগের অবসান ঘটিয়ে এখন থেকে সম্পূর্ণ সনাতনী রীতিনীতি ও নিয়ম মেনেই দিঘার মন্দিরে সমস্ত ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *