দিল্লিতে বিজেপি মন্ত্রীর দরবারে সুদীপ-শতাব্দী, কুণালের নিশানায় দলনেত্রীর ‘অন্ধবিশ্বাস’ – এবেলা

দিল্লিতে বিজেপি মন্ত্রীর দরবারে সুদীপ-শতাব্দী, কুণালের নিশানায় দলনেত্রীর ‘অন্ধবিশ্বাস’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের স্রোত যেন থামছেই না। ৬৪ জন বিধায়কের পর এবার ২০ জন সাংসদও বিদ্রোহী শিবিরের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল দেশের রাজধানী। দিল্লি বিমানবন্দর থেকে নেমে সোজা বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন কলকাতা উত্তরের প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন আরেক তারকা সাংসদ শতাব্দী রায়, যিনি আগেই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এই দুই হেভিওয়েট নেতার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠক ঘিরে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে।

নেপথ্যের কারণ ও রাজনৈতিক সমীকরণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং নেতৃত্বের একাংশের প্রতি ক্ষোভই এই গণ-বিদ্রোহের প্রধান কারণ। দক্ষ কর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং দলের ভেতরের সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া দূরত্ব পরিস্থিতিকে এই পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও প্রবীণ নেতার এই পদক্ষেপ এবং তাঁর স্ত্রীর ‘বেসুরো’ অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, দলের ভেতরের ফাটল এখন আর মেরামতের পর্যায়ে নেই। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মালা রায়, পার্থ ভৌমিক, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব এবং সায়নী ঘোষের মতো প্রথম সারির ও তারকা নেতাদের বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখানো এবং ইউসুফ পাঠানের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া দলের সাংগঠনিক ভিতকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তৃণমূলের একাংশ। দলের নেতা কুণাল ঘোষ তীব্র আক্রমণ করে জানিয়েছেন, বহু মানুষের আপত্তি অগ্রাহ্য করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুদীপকে বিশ্বাস করে পদ দিয়েছিলেন, অথচ দক্ষ কর্মীরা জায়গা পাননি। তাপস রায় বা সজল ঘোষদের মতো নেতাদের দল ছাড়তে হয়েছে। কুণালের স্পষ্ট দাবি, ‘এটাই মমতার প্রাপ্য’।

এই গণ-দলবদলের ফলে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। ২০ জন সাংসদ এবং একঝাঁক বিধায়ক হাতছাড়া হলে সংসদে ও রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। অন্যদিকে, শত্রুঘ্ন সিনহার মতো দু-একজন নেতা পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও, একের পর এক শীর্ষ নেতার দিল্লির মন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়া রাজ্যের শাসক শিবিরের অস্তিত্বের সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *