দিল্লিতে লাঠিচার্জ, আটক ১১০০! নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দেশ – এবেলা

দিল্লিতে লাঠিচার্জ, আটক ১১০০! নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দেশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে শুক্রবার ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো দিল্লি ও মুম্বইয়ে। পুলিশি নিষেধাজ্ঞা এবং কড়া নিরাপত্তা বলয় উপেক্ষা করেই রাস্তায় নামলেন হাজার হাজার মানুষ। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি), বাম ও কংগ্রেসের ডাকে আয়োজিত এই বিক্ষোভে সামিল হয়ে দেশজুড়ে আটক হয়েছেন অন্তত ১,১০০ জন প্রতিবাদী।

রণক্ষেত্র দিল্লির যন্তর মন্তর শুক্রবার সকাল থেকেই লুটিয়েন্স দিল্লি মুড়ে ফেলা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তায়। বন্ধ করে দেওয়া হয় একাধিক মেট্রো স্টেশন, অন্তত ১২ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। কিন্তু সব বাধা টপকে কেরালা ভবনের পাশ দিয়ে হাজারো বিক্ষোভকারী যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়লে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। স্লোগান ওঠে, ‘এক কচোরি, দো সামোসা, জ্ঞানেশ তেরা নেহি ভরোসা’।

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে রীতিমতো বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আতিশীকে টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে দেয় পুলিশ। আপ সাংসদ সঞ্জয় সিংয়ের সঙ্গেও পুলিশের তীব্র বচসা হয়। পাশাপাশি, সিপিআইএম নেতা এমএ বেবি, বৃন্দা কারাট, সৃজন ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, বর্ষীয়ান আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা-কেও আটক করে বাসে তোলে পুলিশ।

মুম্বইয়ে তারকাসমাবেশ ও ভিন্ন মেজাজ দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ চললেও মুম্বইয়ের ছবিটা ছিল অনেকটাই আলাদা। পুলিশের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও শিবাজি পার্কে প্রায় দশ হাজার প্রতিবাদী জড়ো হন। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত ছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি, বিশাল দাদলানি এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী। সেখানে স্লোগান ওঠে, ‘জ্ঞানেশ ব্রো, এ বার পদত্যাগটা করেই ফেলো’।

শাবানা আজমি বলেন, “ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে সাধারণ মানুষ কী করবে? প্রতিবাদ করাটাই আমাদের অধিকার।” সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে মুম্বই পুলিশের প্রশংসা করে বলেন, “মুম্বই পুলিশ চা অফার করে ভদ্রভাবে আমাদের চলে যেতে বলে। ওরা দিল্লি পুলিশের মতো বর্বর নয়।” তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই বিক্ষোভ কেবল ‘ট্রেলার’, আগামী দিনে গোটা দেশের মানুষ পথে নামবে।

অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ দিল্লি ও মুম্বইয়ের পাশাপাশি লখনৌয়ে সমাজবাদী পার্টি এবং জয়পুরে আপ কর্মীরাও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। সেখানেও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির খবর মিলেছে। অন্যদিকে, শিবাজি পার্কের কাছেই ‘জেন নেক্সট মুম্বই’-এর ব্যানারে সিজেপি-বিরোধী পাল্টা জমায়েতও দেখা যায়। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী আশিস শেলার সিজেপি-র এই প্রতিবাদকে নিছক ‘নৈরাজ্য’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *