দীর্ঘ জেরার পর গভীর রাতে ছাড়া পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রবিবার ফের হাজিরার নির্দেশ! – এবেলা

দীর্ঘ জেরার পর গভীর রাতে ছাড়া পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রবিবার ফের হাজিরার নির্দেশ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের সই জালের গুরুতর অভিযোগে শেষপর্যন্ত সিআইডি দফতরে হাজিরা দিতে হলো দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বৃহস্পতিবার কলকাতার ভবানী ভবনে টানা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর গভীর রাতে তিনি ছাড়া পান। তবে আইনি অস্বস্তি এখনই কাটছে না তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতার, কারণ আগামী রবিবার তাঁকে আবারও সিআইডি-র মুখোমুখি হতে হবে। বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরেই নির্ধারিত সময় সন্ধে ছয়টার আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছান তিনি এবং জেরা শেষে রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ বের হয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান।

আদালতের রক্ষাকবচ ও সিআইডির তৎপরতার কারণ

এই মামলার নেপথ্যে রয়েছে বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ, যা নিয়ে সিআইডি দীর্ঘদিন ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছিল। এর আগে একাধিকবার অসুস্থতা ও দিল্লিতে অবস্থানের কারণ দেখিয়ে সিআইডি-র নোটিস এড়ালেও তদন্তকারীদের তৎপরতা কমেনি। সম্প্রতি ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতর এবং কালীঘাটে তৃণমূলের প্রধান কার্যালয়ে সিআইডি তল্লাশি চালানোর পর গ্রেফতারির আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চ অভিষেককে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়ে বৃহস্পতিবারই হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে একই সঙ্গে আদালত আগামী দুই সপ্তাহের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ প্রদান করেছে।

কড়া নিরাপত্তা ও আগামী দিনে সম্ভাব্য প্রভাব

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ভবানী ভবন চত্বরে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও র‍্যাফ মোতায়েন করা হয়েছিল, যদিও পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই তদন্তের গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী রবিবার পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ এবং দুই সপ্তাহ পর হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানির ওপরই নির্ভর করছে তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতার আইনি ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *