দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরছে তৃণমূল, ভোট দিয়ে জয়ের ব্যাপারে প্রবল আত্মবিশ্বাসী মমতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটগ্রহণে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই জয়ের ব্যাপারে নিজের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বিকেলে ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পর তিনি দাবি করেন, রাজ্যজুড়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হলেও তৃণমূল কংগ্রেস দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুনরায় সরকার গঠন করবে। এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রটি হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের সাক্ষী থাকায় তৃণমূল নেত্রীর এই আত্মবিশ্বাস রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন ও বাহিনীর বিরুদ্ধে সরব মুখ্যমন্ত্রী
ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ, জীবনে এমন ভোট তিনি আগে কখনও দেখেননি যেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ ভোটার ও দলীয় কর্মীদের ওপর এই স্তরের দমন-পীড়ন চালিয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং মহিলা ও শিশুদের ওপরও আক্রমণ চালানো হয়েছে। বিশেষ করে নিজের বিধানসভা এলাকার একাধিক বুথে গিয়ে তিনি পরিস্থিতির তদারকি করেন এবং পুলিশের পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে সরব হন।
গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই ও রাজনৈতিক প্রভাব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছেন যে, হুগলি, নদিয়া এবং ক্যানিংয়ের মতো এলাকায় রাতভর সন্ত্রাস চালিয়ে শাসকদলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকি বিজেপি-র অঙ্গুলিহেলনে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে বলেও তিনি সরাসরি আক্রমণ শানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রণংদেহী মেজাজ আসলে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার কৌশল। তাঁর এই অনমনীয় অবস্থান এবং ‘এখনও চেয়ারে আছি’ বলে মনে করিয়ে দেওয়া প্রশাসনিকভাবে বিরোধীদের চাপে রাখার পাশাপাশি জনগণের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টাও হতে পারে। শেষ দফার এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের ফলাফলই ঠিক করে দেবে বাংলার মসনদ কার দখলে থাকছে।
এক ঝলকে
- ভবানীপুরে ভোট দিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ের দাবি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও ভোটারদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তৃণমূল নেত্রীর।
- বিভিন্ন বুথে এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং রাতভর ধরপাকড় নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ।
- প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ফের সরকার গঠনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
