দুই বছর পেরিয়েও লাপাত্তা রাত্তিরের সাথী, সরকারি সমন্বয়হীনতায় বাড়ছে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ – এবেলা

দুই বছর পেরিয়েও লাপাত্তা রাত্তিরের সাথী, সরকারি সমন্বয়হীনতায় বাড়ছে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আরজি কর মেডিকেল কলেজে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে ঘোষিত ‘রাত্তিরের সাথী’ প্রকল্পটি আজও অধরা। প্রতিবাদের ঝড়ে যখন উত্তাল ছিল রাজ্য, তখন নবান্নের পক্ষ থেকে ঘটা করে এই প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ মোবাইল অ্যাপ, রাতের ডিউটিতে সিসিটিভি নজরদারি এবং পৃথক বিশ্রাম কক্ষের মতো একগুচ্ছ পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি বললেই চলে।

বিভাগীয় সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক ধোঁয়াশা

সম্প্রতি এই প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে রাজ্যের নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রীর মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জনৈক মন্ত্রীর এই বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর দিতে না পারা এবং দায়ভার অন্য দপ্তরের ওপর ঠেলে দেওয়ার ঘটনাটি সরকারি স্তরে সমন্বয়হীনতাকে প্রকট করেছে। বিভাগীয় টালবাহানায় জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সুরক্ষাকবচ ফাইলবন্দি হয়ে আছে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক সংঘাত ও ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ

এদিকে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তাকে প্রশাসনিক দেউলিয়া বলে কটাক্ষ করছে তারা। অন্যদিকে স্বাস্থ্য পরিষেবার সাথে যুক্ত নারীদের অভিযোগ, ঘটা করে প্রচার করা অ্যাপটির কোনো হদিস আজও মেলেনি। হাসপাতাল চত্বরে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় রাতের শিফটে কর্মরত মহিলারা এখনও গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই দীর্ঘসূত্রতা সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • আরজি কর কাণ্ডের পর ঘোষিত ‘রাত্তিরের সাথী’ অ্যাপ ও সুরক্ষা প্রকল্পের কাজ ঝুলে রয়েছে।
  • নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বড়সড় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
  • বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের এই ব্যর্থতাকে রাজনৈতিক প্রচার ও প্রশাসনিক অক্ষমতা হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।
  • হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নারী কর্মীরা আজও অ্যাপ এবং নিরাপদ পরিকাঠামোর অভাবে আতঙ্কিত।
Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *