দুই শিবিরেই সই করে চরম আইনি ফাঁদে বিধায়করা! বিস্ফোরক দাবি কুণাল ঘোষের – এবেলা

দুই শিবিরেই সই করে চরম আইনি ফাঁদে বিধায়করা! বিস্ফোরক দাবি কুণাল ঘোষের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

হাইকোর্টের নির্দেশের পর আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা কাটলেও, সই-সাবুদ পর্ব নিয়ে দলের অন্দরে আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার কালীঘাট শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে সমস্ত বিধায়ক দুই শিবিরেই সই করেছেন, তাঁরা মারাত্মক আইনি ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন।

ভয় দেখিয়ে সই আদায়ের অভিযোগ

কুণাল ঘোষের দাবি অনুযায়ী, ঋতব্রত শিবিরের প্রতি নব্বই থেকে পঁচানব্বই শতাংশ বিধায়কেরই আন্তরিক সমর্থন নেই। তাঁর অভিযোগ, মূলত ভয় দেখিয়ে এবং চাপ সৃষ্টি করে এই সইগুলি আদায় করা হয়েছে। এই বিক্ষুব্ধ বিধায়করা ইতিমধ্যেই কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো কালীঘাট শিবিরের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। চরম মনোকষ্টে থাকা এই বিধায়কদের উদ্দেশে কুণালের বার্তা, তাঁরা মাথা উঁচু করে বাঁচতে চান কি না, তা এবার নিজেদেরই স্থির করতে হবে।

নেতৃত্ব নিয়ে দড়ি টানাটানি ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এই জটিলতার সূত্রপাত। প্রথমে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হলেও, পরবর্তীতে সন্দীপন সাহা ৫৮ জন বিধায়কের সই সম্বলিত একটি পাল্টা প্রস্তাব জমা দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই পদে আনার দাবি জানান। এই পাল্টাপাল্টি দাবির কারণেই এমন অনেক বিধায়কের নাম সামনে আসছে, যাঁদের সমর্থন দুই পক্ষের দস্তাবেজেই রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই সঙ্গে দুই শিবিরে সই করার এই ঘটনা দলত্যাগ বা অবস্থান বিভ্রান্তির মতো গুরুতর আইনি জটিলতার পথ প্রশস্ত করতে পারে। এই পরিস্থিতি দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করার পাশাপাশি আগামী দিনে বিরোধী দলনেতার পদ ঘিরে আরও বড় ধরনের সাংবিধানিক ও আইনি বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *