“দুটোতেই জিতব, তবে ছাড়ব রেজিনগর!” হুমায়ুনের বড় ঘোষণায় শোরগোল রাজনৈতিক মহলে, পাল্টা ধুয়ে দিল তৃণমূল

আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীর নির্বাচন পরবর্তী এক বিস্ফোরক দাবিতে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। নওদা ও রেজিনগর—উভয় বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে দাবি করেছেন। এমনকি তিনি ঘোষণা করেছেন যে, দুই আসনে জিতলেও তিনি রেজিনগর ছেড়ে দেবেন এবং আগামী লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে তাঁর এই দাবিকে কেন্দ্র করে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপি।
তৃণমূল ও বিজেপির পাল্টা তোপ
হুমায়ুনের এই আত্মবিশ্বাসকে ‘হাস্যকর’ এবং ‘পাগলের প্রলাপ’ বলে অভিহিত করেছেন বিরোধীরা। তৃণমূলের নওদা ব্লক সভাপতির মতে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর হুমায়ুনের জামানত জব্দ হবে এবং তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিতে বাধ্য হবেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, দুই কেন্দ্রেই হুমায়ুন শোচনীয়ভাবে পরাজিত হবেন এবং রাজ্যে পরিবর্তনের ঢেউয়ে তাঁর অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতেই তিনি এমন বিতর্কিত বয়ান দিচ্ছেন।
বিতর্ক ও জনরোষের প্রভাব
ভোটের ঠিক আগে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও হুমায়ুন কবীরের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই ভিডিওতে মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে তাঁর আপত্তিকর মন্তব্য এবং বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাতের অভিযোগ ওঠায় খোদ সংখ্যালঘু সমাজ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ। নির্বাচনের দিন বিভিন্ন বুথে তাঁকে ‘চোর’ স্লোগান ও প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। এই গণরোষ এবং দলের প্রার্থীদের তৃণমূলে যোগদানের ফলে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
এক ঝলকে
- আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর দুই আসনেই জয়ের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
- তৃণমূল ও বিজেপি উভয়েই তাঁর এই দাবিকে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
- বিতর্কিত ভিডিও এবং দলীয় কোন্দলের কারণে ভোটারদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কমেছে।
- রাজনৈতিক মহলের মতে, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই তিনি আগাম অবান্তর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছেন।
