দুবাইয়ে ভয়াবহ ইরানি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা কি এবার চরম পরিণতির দিকে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানের পাল্টায় এবার মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। ইরানের নজিরবিহীন ড্রোন ও মিসাইল হামলায় কেঁপে উঠল দুবাই এবং আবুধাবি। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় আপাতত সেখানে সমস্ত বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দুবাইয়ের আইকনিক পাম আইল্যান্ড এবং বিলাসবহুল বুর্জ আল আরব হোটেলেও আঘাত হেনেছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে ইরানকে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE)।
পড়শিদের ওপর রাগ ঝাড়বেন না, ইরানকে হুঁশিয়ারি আমিরশাহীর
ইরানের এই বেপরোয়া আচরণের পর মুখ খুলেছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, “আপনাদের লড়াই প্রতিবেশীদের সঙ্গে নয়। অহেতুক উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিশানা করে ইরান নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনছে। এই ভুল কৌশলের কারণে ইরান আন্তর্জাতিক মহলে আরও একা হয়ে পড়বে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, উত্তেজনার পারদ আরও বাড়ার আগেই ইরানের উচিত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়া এবং দায়িত্বশীল আচরণ করা।
হামলার নেপথ্যে কোন কারণ
শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর একটি বিশাল সামরিক অভিযান চালায়। সূত্রের খবর, এই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জনতাকে এই সুযোগে বর্তমান শাসনের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান। এই চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেই ইরান পালটা আঘাত শুরু করে। ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল ছোড়ার পাশাপাশি বাহরাইন, কুয়েত এবং কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানায় তেহরান।
যুদ্ধের কবলে দুবাই থেকে দোহা
রবিবার সকাল থেকেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। দুবাই, বাহরাইনের রাজধানী মানামা এবং কাতারের রাজধানী দোহা—প্রতিটি শহরই ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো ছাড়াও ইরাকের কুর্দিস্তানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে ইরানের বায়ুসেনা। দুবাইয়ের মতো পর্যটন ও বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্রে হামলা চলায় গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতেও বড়সড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের এই আশঙ্কায় এখন প্রমাদ গুনছে গোটা আরব বিশ্ব।

