দুর্নীতির অভিযোগে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে নজিরবিহীন ক্র্যাকডাউন, ৫ দিনে রিপোর্ট চাইল নবান্ন! – এবেলা

দুর্নীতির অভিযোগে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে নজিরবিহীন ক্র্যাকডাউন, ৫ দিনে রিপোর্ট চাইল নবান্ন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় আবাসন প্রকল্প ‘বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ)’-এর উপভোক্তা তালিকায় বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয়— দুই ফেজেই বহু অযোগ্য ব্যক্তি অনৈতিকভাবে সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন বলে নবান্নে ভুরিভুরি অভিযোগ জমা পড়ছিল। সাধারণ নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের করা এই লাগাতার অভিযোগের জেরে এবার নড়েচড়ে বসেছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর। উপভোক্তাদের তালিকা থেকে ভুয়ো ও অযোগ্যদের নাম পুরোপুরি ছেঁটে ফেলতে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের এক জরুরি নির্দেশিকা পাঠিয়ে অবিলম্বে সম্পূর্ণ পুনর্যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আচমকা স্ক্রিনিংয়ের কারণ ও প্রযুক্তির ব্যবহার

নবান্নের মূল লক্ষ্য, উপভোক্তাদের তালিকায় যেন একজনও অযোগ্য বা ভুয়ো আবেদনকারীর নাম না থাকে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিতও হয়েছে এবং বেআইনিভাবে নেওয়া টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই কারণেই প্রথম ও দ্বিতীয় দফার এমন সমস্ত উপভোক্তা— যাঁরা ইতিমধ্যেই সরকারের কাছ থেকে অন্তত একটি কিস্তির টাকা পেয়ে গিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের যোগ্যতা পুনরায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এই বিশাল মাপের পুনর্যাচাইয়ের কাজ দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন মডিউল তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। কাজের গতি বাড়াতে এবং কড়া নজরদারি চালাতে মহকুমা ও ব্লক স্তরে উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের মোতায়েন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কড়া ডেডলাইনের সম্ভাব্য প্রভাব

এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য জেলা প্রশাসনগুলিকে মাত্র ৫ দিনের একটি ‘ক্র্যাশ ডেডলাইন’ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ মে বিকেল ৬টার মধ্যে প্রতিটি জেলার জেলাশাসকের নিজস্ব স্বাক্ষর সম্বলিত বিশদ রিপোর্ট, কাজ শেষের শংসাপত্র এবং চিহ্নিত হওয়া অযোগ্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হল, তা ইমেলের মাধ্যমে নবান্নে পাঠাতে হবে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে গ্রামীণ আবাসন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে এনে আমজনতার ক্ষোভ প্রশমন করাই এখন রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন প্রকৃত দুস্থদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছানো নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বেআইনিভাবে সুবিধা নেওয়া অযোগ্য ব্যক্তিদের ওপর বড় প্রশাসনিক চাপ তৈরি হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *