দুর্নীতির খোঁজে ১৫ বছরের অডিট, সমবায়ে বড় রদবদলের ডাক মন্ত্রীর – এবেলা

দুর্নীতির খোঁজে ১৫ বছরের অডিট, সমবায়ে বড় রদবদলের ডাক মন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের সমবায় দফতরে গত দেড় দশকে জমা হওয়া অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন সমবায়মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। গত ১৫ বছরে দফতরে ঘটে যাওয়া সমস্ত আর্থিক লেনদেন ও কর্মকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিটের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর এই আকস্মিক ও কঠোর সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতি এবং সমবায় ক্ষেত্রে এক বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

তৃণমূল স্তরে বঞ্চনা ও ঋণের অনিয়ম

দীর্ঘদিন ধরেই সমবায় দফতরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্তরে ক্ষোভ জমছিল। মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন যে, বিগত ১৫ বছরে সমবায় দফতরে প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে। এই অনিয়মের সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজ্যের সাধারণ চাষীদের ওপর, বহু জায়গায় কৃষকেরা তাঁদের ন্যায্য টাকা পাননি। এর পাশাপাশি সমবায় ব্যাঙ্কগুলো থেকে নেওয়া ঋণের টাকা সঠিকভাবে পরিশোধ না করার মতো গুরুতর আর্থিক অসঙ্গতিও সামনে এসেছে, যা এই ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছিল।

জনপ্রতিনিধিদের বিদায় ও নতুন নিয়ম

এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং সমবায় ক্ষেত্রকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা করেছেন সমবায়মন্ত্রী। এখন থেকে নতুন সমবায় গঠনের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধি আর সমবায়ের শীর্ষপদে বসতে পারবেন না। পরিবর্তে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে জোরদার করতে সমবায় বোর্ডের সদস্যেরাই নিজেদের মধ্য থেকে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করবেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে সমবায় পরিচালনায় আমলাতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমবে এবং প্রকৃত অংশীদারদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • সমবায় দফতরের গত ১৫ বছরের আর্থিক কর্মকাণ্ডের অডিট করানোর নির্দেশ দিলেন সমবায়মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া।
  • কৃষকদের টাকা না পাওয়া এবং ব্যাঙ্কের ঋণ শোধ না করার মতো একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
  • রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে সমবায়ের শীর্ষপদে জনপ্রতিনিধিদের বসার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
  • সমবায় বোর্ডের সদস্যরাই এখন থেকে গণতান্ত্রিক উপায়ে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *