দেওয়ালে নোনা ধরলে বিদায় নেন লক্ষ্মী? জানুন মাত্র ২০০ টাকায় নোনা দূর করার মোক্ষম ঘরোয়া টোটকা!

দেওয়ালে নোনা ধরলে বিদায় নেন লক্ষ্মী? জানুন মাত্র ২০০ টাকায় নোনা দূর করার মোক্ষম ঘরোয়া টোটকা!

শহরাঞ্চলের প্রায় সত্তর শতাংশ বাড়িতে এখন নোনা ধরা বা ‘এপলোরেসেন্স’ একটি অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা ও হাওড়ার পুরনো ও নতুন আবাসনগুলোতে এই সমস্যা প্রকট। মাটির নিচের লবণাক্ত জল ইটের সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে উপরে উঠে আসায় প্লাস্টার খসে পড়ে এবং সাদা গুঁড়োর মতো নুন জমতে থাকে। এটি কেবল দেওয়ালের স্থায়িত্ব কমায় না, বরং ঘরের ভেতর ছত্রাক ও গুমোট পরিবেশ তৈরি করে বাসিন্দাদের শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বাস্তুশাস্ত্র ও অর্থনৈতিক প্রভাব

বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, দেওয়ালের নোনা ধরা কেবল সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ত্রুটি নয়, এটি আর্থিক অনটনেরও ইঙ্গিত। বাড়ির উত্তর ও পূর্ব দিককে কুবের ও ইন্দ্রের স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দিকগুলোতে ড্যাম্প বা নোনা ধরা মানেই অর্থাগম বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং সঞ্চয় কমে যাওয়া। শাস্ত্র মতে, স্যাঁতসেঁতে ও অন্ধকার দেওয়াল অলক্ষ্মীর বাসভূমি, যা পরিবারের সদস্যদের মানসিক শান্তি ও শ্রীবৃদ্ধি নষ্ট করে।

কারণ ও প্রতিকারের উপায়

বাড়ি তৈরির সময় সঠিক ‘ড্যাম্প প্রুফ কোর্স’ বা ডিপিসি না করা, নিম্নমানের নোনা বালি ব্যবহার এবং ঘর পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনহীন হওয়া নোনার প্রধান কারণ। সাময়িক সমাধানে ভিনিগার ও ফিটকিরি জল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে স্থায়ী উপশমের জন্য পাইপলাইনের লিকেজ মেরামত করে ইটের স্তর পর্যন্ত প্লাস্টার তুলে ওয়াটারপ্রুফিং কেমিক্যাল ব্যবহার করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নোনার ওপর সরাসরি রং বা পিওপি লাগানো হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এক ঝলকে

  • দেওয়ালের নোনা বা ড্যাম্প বাড়ির আয়ু কমানোর পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জির কারণ হয়।
  • বাস্তু মতে উত্তর-পূর্ব কোণে নোনা ধরা আর্থিক ক্ষতি ও কর্মক্ষেত্রে বাধার সংকেত।
  • ভিনিগার, ফিটকিরি ও ড্যাম্প ব্লক প্রাইমার ব্যবহার করে স্বল্প খরচে নোনার বিস্তার রোধ করা সম্ভব।
  • স্থায়ী সমাধানের জন্য আধুনিক ওয়াটারপ্রুফিং প্রযুক্তি ও সঠিক ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *