ধর্মীয় মেরুকরণে নতুন মাত্রা, এবার বাংলায় ‘হালাল’ বয়কট ও ‘ঝটকা’ মাংসের পক্ষে সওয়াল বিজেপি বিধায়কের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য রাজনীতিতে এবার প্রবেশ করল মাংস কাটার পদ্ধতিগত বিতর্ক। ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচীর সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক তরজা শুরু হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের ‘হালাল’ মাংস বয়কট করে ‘ঝটকা’ মাংস কেনার প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের বিকল্প হিসেবে ঝটকা মাংসের দোকান খোলার পরামর্শ দিয়েছেন এই আইনজীবী-বিধায়ক। তাঁর এই মন্তব্যের পর পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে ধর্মীয় মেরুকরণের বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ও বিধায়কের যুক্তি
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচী অত্যন্ত কড়া সুরে দাবি করেন, হিন্দুদের হালাল মাংস খাওয়ার কোনো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি স্পষ্ট জানান, ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষরা তাঁদের নিয়ম অনুযায়ী হালাল মাংস খেতেই পারেন, কিন্তু হিন্দুদের ওপর তা চাপিয়ে দেওয়া চলবে না। নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, হিন্দুরা মূলত বলির মাংস অর্থাৎ ঝটকা মাংস খেয়ে অভ্যস্ত, তাই তাঁরা ‘আড়াই পোঁচের’ মাংস খাবেন না। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের রুটি-রুজিতে আঘাত করার জন্য নয়, বরং পদ্ধতির প্রতিবাদ বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর মতে, অন্য সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরা যদি হিন্দুদের পদ্ধতি মেনে ঝটকা মাংস বিক্রি করেন, তবে সেখান থেকে কেনাকাটা করতে কোনো আপত্তি নেই।
অর্থনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
রাজ্যের বর্তমান কর্মসংস্থান পরিস্থিতির দিকে আঙুল তুলে এই বিতর্ককে তরুণ প্রজন্মের রোজগারের হাতিয়ার করার পরামর্শ দিয়েছেন কৌস্তুভ বাগচী। বেকার যুবকদের মুরগি বা খাসির ঝটকা মাংসের দোকান খোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি ভালো ব্যবসা এবং এর মাধ্যমে ভালো উপার্জন সম্ভব। এই আন্দোলনকে কেবল মুখের কথায় সীমাবদ্ধ না রেখে তিনি আইনি ও সংসদীয় স্তরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। গোটা রাজ্য তথা দেশজুড়ে এর একটি নির্দিষ্ট তালিকা তৈরির দাবি জানানোর পাশাপাশি আগামী বিধানসভা অধিবেশনেও হালাল মাংসের রমরমা বন্ধের বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই বিজেপি বিধায়ক।
সম্ভাব্য প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধায়কের এই ‘হালাল বয়কট’ এবং ‘ঝটকা নীতি’ রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মাংস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি বড় অংশের ব্যবসায়িক সমীকরণ বদলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উৎসবের মরশুমের আগে এই ধরনের মন্তব্য জনমানসে বিভাজন তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই, কৌস্তুভ বাগচীর এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের পর শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী শিবিরগুলির পক্ষ থেকে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা প্রতিবাদের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
