ধূপগুড়িতে তৃণমূলে বড়সড় ধস, বুথ সভাপতিসহ ৪২টি পরিবারের পদ্ম শিবিরে যোগদান
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে বড়সড় সাংগঠনিক ধাক্কা খেল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার ধূপগুড়ি বিধানসভার বারঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক বিশেষ যোগদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে তৃণমূলের স্থানীয় এক দাপুটে বুথ সভাপতির নেতৃত্বে মোট ৪২টি পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেয়। নির্বাচনের আগে এই দলবদলকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সাধারণ মানুষের প্রতি অবহেলা এবং উন্নয়নের অভাব দেখে কর্মীরা বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছেন। শাসক দলের ‘অত্যাচারে’ অতিষ্ঠ হয়েই বুথস্তরের কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গেরুয়া শিবিরে শামিল হচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বারঘরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বুথ সভাপতির দলত্যাগ তৃণমূলের বুথস্তরের সংগঠনের জন্য বড় ক্ষতি হতে পারে, যা আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের মতে, দু-একজনের দলত্যাগে সংগঠনের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে উত্তরবঙ্গে যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ঘাঁটি শক্ত করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে ধূপগুড়িতে এই ভাঙন রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি ও তৃণমূলের লড়াই বরাবরই হাড্ডাহাড্ডি হয়, তাই এই দলবদল পদ্ম শিবিরের আত্মবিশ্বাস বাড়াল।

