নকল এবিভিপি ও বিএমএস সেজে তৃণমূল কর্মীদের অনুপ্রবেশের হিড়িক, ১৭ থানায় অভিযোগ সঙ্ঘের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের পর থেকেই ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের বহু কর্মী-সমর্থক ও ছাত্রনেতা নিজেদের রাতারাতি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সহযোগী সংগঠনগুলির সদস্য হিসেবে দাবি করতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এবং ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ (বিএমএস)-এর মতো সংগঠনগুলিতে এই ধরনের ‘স্বঘোষিত’ দলবদলের হিড়িক দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সঙ্ঘ নেতৃত্ব।
নকল লেটারহেড ও থানায় অভিযোগ
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) বহু নেতা-কর্মী নিজেদের এবিভিপি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেছেন বলে অভিযোগ। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় আগের টিএমসিপি গ্রুপগুলো এখন রাতারাতি নাম বদলে এবিভিপি পরিচয়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে। অভিযোগ উঠেছে, নকল এবিভিপি লেটারহেড ব্যবহার করে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি খোদ রাজ্যপালের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের জালিয়াতি ও সংগঠনের নাম অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে এবিভিপি রাজ্য নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই ১৭টি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এবং রাজ্যজুড়ে কড়া নজরদারি শুরু করেছে। ৫ মে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল স্বঘোষিত এবিভিপি কর্মীর বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গেও নিজেদের কোনও সম্পর্ক নেই বলে সাফ জানিয়েছে সংগঠনটি।
শ্রমিক সংগঠনেও থাবা ও বিজেপির অবস্থান
ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি সঙ্ঘের শ্রমিক সংগঠন বিএমএস-কেও এখন এই নতুন সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যারা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না, তাঁদের অনেকেই বিএমএস-এর নাম ব্যবহার করে রাজ্যের বিভিন্ন ছোট ছোট শ্রমিক ইউনিয়নের দখল নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সতর্কবার্তা জারি করেছে বিএমএস নেতৃত্ব। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, অতীতে যারা শ্রমিক সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতি করেছে, তাদের সঙ্গে বিএমএস-এর আদর্শের কোনও মিল নেই। অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচনের পর হঠাৎ দলবদল করা এই ধরনের “পোস্ট-পোল বিজেপি” কর্মীদের দলে কোনও জায়গা দেওয়া হবে না।
অনুপ্রবেশের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আকস্মিক দলবদলের চেষ্টার পিছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হওয়ায় নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং দ্বিতীয়ত, অতীতে করা বিভিন্ন অনিয়ম বা অভিযোগের হাত থেকে নিজেদের আড়াল করা। সরাসরি বিজেপিতে প্রবেশের পথ বন্ধ দেখেই অনেকে সঙ্ঘ পরিবারের ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনগুলিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার কৌশল নিয়েছেন। তবে সঙ্ঘের সহযোগী সংগঠনগুলির এই কঠোর অবস্থান এবং আইনি পদক্ষেপের কারণে এই ভুয়ো অনুপ্রবেশের চেষ্টা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এর ফলে আগামী দিনে শিক্ষাঙ্গন ও শ্রমিক সংগঠনগুলিতে ভুয়ো পরিচয়ধারীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া আরও জোরদার হবে।
