নতুন গাড়ির জন্যই কি দলবদল! সুদীপকে নিয়ে কল্যাণের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী তথা লোকসভায় দলের প্রাক্তন দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন জোর জল্পনা। সম্প্রতি শতাব্দী রায়ের সঙ্গে তাঁকে একই গাড়িতে দেখা যাওয়ার পর থেকেই তাঁর এনডিএ শিবিরে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আর এই দলবদলের জল্পনার মাঝেই বিস্ফোরক দাবি করে বসলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
গাড়ির আবদার ও রোজভ্যালি প্রসঙ্গ
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি নতুন গাড়ির আবদার করেছিলেন সুদীপ। দিল্লিতে ব্যবহৃত তাঁর পুরোনো গাড়িটির বয়স ১৭ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় তিনি এই নতুন গাড়ি চেয়েছিলেন। কিন্তু দলনেত্রী সেই দাবি খারিজ করে দলের পুরোনো গাড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। কল্যাণের ইঙ্গিত, এই অসন্তোষ তাঁর সম্ভাব্য দলবদলের একটি কারণ হতে পারে। পাশাপাশি, রোজভ্যালি কাণ্ডে ইডির মামলা থেকে পাকাপাকিভাবে অব্যাহতি পাওয়ার আশাতেও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এনডিএ-র দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে মনে করছেন তিনি। কল্যাণ এও মনে করিয়ে দেন যে, রোজভ্যালি মামলায় জেল হেফাজতে থাকাকালীন সুদীপের আইনি লড়াইয়ের জন্য দল প্রচুর অর্থ খরচ করেছিল।
নৈতিকতার প্রশ্ন ও সম্ভাব্য প্রভাব
সুদীপের এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক পদক্ষেপে দলের অন্যান্য বর্ষীয়ান নেতারাও বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। দমদমের সাংসদ সৌগত রায় জানিয়েছেন, কিছুদিন আগেই সুদীপ তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তিনি দল ছাড়ছেন না এবং এমন কিছু ঘটলে আগেভাগে জানাবেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সৌগত রায় একে সরাসরি ‘মানুষের নৈতিকতার ব্যাপার’ বলে কটাক্ষ করেছেন। এর আগেও কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে সুদীপের দলবদলের ইতিহাস রয়েছে। তবে বর্ষীয়ান এই নেতা যদি সত্যিই এনডিএ শিবিরে যোগদান করেন, তবে তা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য একটি বড় ধাক্কা হতে পারে। এর ফলে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ যেমন বদলাবে, তেমনই দলের ভাবমূর্তিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
