নদীয়ায় সোয়া লক্ষ ভোটার উধাও, নির্বাচনের মুখে চাঞ্চল্যকর তথ্যে কপালে ভাঁজ শাসক-বিরোধী শিবিরের

ভোটের আগে নদীয়া জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সাতটি সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট অনুযায়ী, জেলায় মোট ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৮৬৭ জনের নাম মূল তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য জমা পড়া প্রায় ১ লক্ষ ৫৭ হাজার আবেদনের মধ্যে মাত্র ৩১ হাজার ৯৬টি নাম গ্রাহ্য হয়েছে। এখনও প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার আবেদন ‘বিবেচনাধীন’ পর্যায়ে থাকায় ঝুলে রয়েছে বিপুল সংখ্যক মানুষের ভাগ্য। বিপুল এই কাটছাঁট জেলার নির্বাচনী সমীকরণ ওলোটপালোট করে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাদ পড়া নামগুলোর পরিসংখ্যান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত চাপড়ায় ১৬,০৩১ এবং নাকাশিপাড়ায় ১২,০৩৫ জনের নাম তালিকাভুক্ত হয়নি, যা তৃণমূলের অন্দরে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, গত নির্বাচনে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম ও কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা এলাকাতেও যথাক্রমে ৯,৯৮৩ এবং ৮,৫২০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। মতুয়া প্রধান অঞ্চলগুলোতেও একই চিত্র দেখা দেওয়ায় দুই প্রধান প্রতিপক্ষই এখন তাদের নিশ্চিত ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাক্যযুদ্ধ। রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস একে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের গভীর ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। তাঁর মতে, পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল সমর্থকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেত্রী অপর্ণা নন্দী এই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ আইনি বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, নথিপত্র সঠিক থাকলে উদ্বেগের কারণ নেই এবং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার এই প্রক্রিয়া স্বাভাবিক। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকার এই রদবদল নদীয়ার আসনগুলোতে জয়ের ব্যবধান কমিয়ে দিতে পারে বা অভাবনীয় কোনো ফলাফল বয়ে আনতে পারে।
