নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে উত্তাপ! কংগ্রেস নেতা আটক, মারধরের শিকার সিপিআই এজেন্ট – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নন্দীগ্রাম: মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে নন্দীগ্রামের বহুচর্চিত উপনির্বাচন। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই নন্দীগ্রামের একাধিক এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এলাকা উত্তপ্ত করার অভিযোগে কংগ্রেসের এক প্রভাবশালী নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ভোটকক্ষে সিপিআই প্রার্থীকে মারধর এবং একাধিক বুথে কংগ্রেস এজেন্টদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে কংগ্রেস সভাপতি আটক ভোটের দিন সকালে এলাকায় অশান্তি ছড়ানো ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের কংগ্রেস সভাপতি শেখ আসাফুল তুল্লাকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে তাঁকে নন্দীগ্রাম থানায় রাখা হয়েছে।
সিপিআই এজেন্ট হাসপাতালে ভর্তি, তোপ বিজেপির দিকে সরবেড়িয়ার ২১২ নম্বর বুথে সিপিআই-এর ইলেকশন এজেন্ট শেখ সাদ্দাম হোসেনকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত সাদ্দাম হোসেন নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক ইলিয়াস মহম্মদের ছেলে। সাদ্দামের দাবি, সকালে বুথে যাওয়ার পথেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। বর্তমানে তিনি মারাত্মক চোট নিয়ে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পাশাপাশি স্থানীয় ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছে শাসক ও বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে।
কংগ্রেস প্রার্থীর তোপ ও গাংড়া বুথের ছবি কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অভিযোগ, নন্দীগ্রামের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বুথে তাঁদের দলের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সকালে সোনাচূড়া গাংড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৮০ নম্বর বুথে স্ত্রী অর্পিতা প্রধানকে নিয়ে ভোট দেন মিলন। ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, “সারারাত ধরে বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি হয়েছে। মানুষ যেন স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ জানিয়েছি।”
শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবি বিজেপি প্রার্থীর অন্য দিকে, ভোটের সকালে রেয়াপাড়া শিবমন্দিরে পুজো দিয়ে দিন শুরু করেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দাবি করেন, “নন্দীগ্রামে ভোট একদম উৎসবের মেজাজে হচ্ছে, কোথাও কোনো বড় সমস্যা নেই।”
প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা জানান, এলাকা জুড়ে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নেই ভোট দিচ্ছেন। সিপিআই এজেন্টের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে কিছু ক্ষেত্রে প্র সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ‘প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন’ করা হচ্ছে।
