নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরির অভিযোগ, পদ্ম প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের

নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্রেই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী— এই অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলো তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন কমিশনকে পরপর দুটি চিঠি পাঠিয়ে শুভেন্দুর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। শাসকদলের অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে মারধর ও ‘কাশ্মীরের মতো সোজা করে দেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের নাম ধরে হুমকি দিয়ে রাজ্য প্রশাসনে ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন তিনি, যা নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।
দ্বিতীয় চিঠিতে মনোনয়ন দাখিলের সময় নিয়ম ভাঙার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, ভবানীপুর কেন্দ্রে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় রিটার্নিং অফিসারের কক্ষে নির্ধারিত পাঁচ জনের সীমানা পেরিয়ে অনেক বেশি মানুষ প্রবেশ করেছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর উল্লেখ করে ডেরেক অভিযোগ করেছেন যে, কমিশনের ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদ এখানে লঙ্ঘিত হয়েছে। এই ঘটনায় রিটার্নিং অফিসার ও সাধারণ পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী শুভেন্দু অধিকারীর আচরণ ‘দুর্নীতিমূলক’। তাই তাঁকে অবিলম্বে শোকজ করার পাশাপাশি বর্তমান নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে অপসারণ করে একজন নিরপেক্ষ আধিকারিক নিয়োগের আবেদনও করেছে শাসকদল। এই মর্মে চিঠির প্রতিলিপি দিল্লির কেন্দ্রীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকেও পাঠানো হয়েছে, যা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
